১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ডোমারে জাল দলিলের অভিযোগে নকলনবিশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারীর ডোমার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ শাহিনের বিরুদ্ধে ভূমি দখল, জাল দলিল তৈরি এবং সরকারি রেজিস্ট্রি বালাম (নথিপত্র) বিনষ্ট করার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযুক্ত শাহিনকে “ভূমি দস্যু” ও “রেজিস্ট্রি অফিসের বালাম বিনষ্টকারী” আখ্যা দিয়ে প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও ন্যায্য বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে ডোমার উপজেলার বড় রাউতা মাদ্রাসা পাড়া এলাকার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত মনিন্দ্রনাথ রায়ের স্ত্রী ভারতী রাণী রায় ও তার ছেলে সুব্রত দেব রায় উপজেলা শহরে তাদের এক আত্মীয়ের বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, বড় রাউতা মৌজার সিএস ৭৪৫ নম্বর খতিয়ানের মালিক ছিলেন যব্দ রাম রায়। তার কাছ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪২ তারিখে ৩৪৫৬/৪২ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ৭২৫৩ দাগের ১৭ শতক জমি তাদের দাদা উমেশ চন্দ্র ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ১৫ আগস্ট ১৯৭৭ সালে ৭০৯৮/৭৭ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ওই জমি হস্তান্তর করা হয়। এসএ রেকর্ড অনুযায়ী ৭২৫৩ দাগে ১৭ শতক জমি থাকায় উমেশ চন্দ্র ৭৩৩ নম্বর খতিয়ানে ৩ আনা ৮ গণ্ডা জমির মালিকানা লাভ করেন।

তারা দাবি করেন, ৭১৪০ নম্বর দাগে তাদের কোনো জমি না থাকা সত্ত্বেও এবং এসএ ৭৩৯ নম্বর খতিয়ানের প্রকৃত মালিক রাধেশ্বর বর্মন হওয়ার পরও ১৯ ডিসেম্বর ১৯৯১ সালের ৭০২৪ নম্বর একটি ভুয়া দলিল সৃষ্টি করা হয়। ওই দলিলে ৭৩৯ নম্বর খতিয়ানের ৭১৪৩ দাগের ১৫ শতক, ৭৩৩ নম্বর খতিয়ানের ৭১৪০ দাগের ১৩ শতক এবং ৭১৩১ দাগের ১৬ শতক জমি দেখানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দলিলটি ২৬ নম্বর ভলিউমের শেষের কয়েকটি পৃষ্ঠায় অস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে এবং বালামের পৃষ্ঠাগুলো ঘষামাজা করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, এসএ ৭১৩৯ ও ৭১৪২ দাগে কোনো বৈধ দলিল না থাকা এবং ৭১৪০ দাগ অন্য মালিকের নামে বিএস রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত শাহিন ও তার সহযোগীরা কৌশলে এসব জমি নিজেদের নামে বিএস রেকর্ড করে নেন।

সংবাদ সম্মেলনে সুব্রত দেব রায় অভিযোগ করেন, সম্প্রতি সাফিউল ইসলাম নামে তাদের এক প্রতিবেশীর ক্রয়কৃত ৭১৪০ নম্বর দাগের জমিও জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে। পরে তারা জানতে পারেন, এসএ ৭১৩৯ ও ৭১৪২ দাগের জমি বিএস রেকর্ডে যথাক্রমে ৭৩৫৯ ও ৭৩৫৪ দাগ হিসেবে শাহিনের পিতা আব্দুর রশিদ গংয়ের নামে লিপিবদ্ধ হয়েছে।

এ বিষয়ে তারা রেকর্ড সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করেন। তবে অভিযুক্তরা মামলায় হাজিরা না দিয়ে উল্টো তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

সুব্রত দেব রায় আরও দাবি করেন, গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তাদেরকে জোরপূর্বক একটি দানপত্র দলিলে স্বাক্ষর করানো হয়। এ ঘটনায় তারা থানায় অভিযোগ ও আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত শাহিন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চাকরি করার সুযোগে সরকারি বালাম নষ্ট করে তথ্য গোপন করছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নানা চাপ ও হুমকির কারণে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ ঘটনায় তারা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, জাল দলিল বাতিল এবং ভূমি দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top