১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৮শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

বিএডিসির খনন করা খাল-ই ফের খনন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড

মোঃ নাঈম ইসলাম, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে মির্জা মামুদ খাল। তিন বছর আগে বিএডিসির খনন করা খাল আবারো খনন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কাজটির উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ এড. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

খালের ৪.৮৫০ কিলোমিটার ২ কোটি ৬১ লাখ টাকায় আবারো খনন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। অথচ বিএডিসি খালটি খনন করেছিল ৩৪ লাখ টাকায়। তিন বছরের ব্যবধানে একই খাল পুনরায় খনন করায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনুমোদন হওয়া প্রকল্পটিকে বিতর্কিত বলছে বিএডিসি।
নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যনারে গত সোমবার (১৬মার্চ) সকালে মির্জা মামুদ খাল খননের বিতর্কিত ওই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ নাটোর-২ সদর আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ।
নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য বলছে- খালটির নন্দকুঁজা নদী অংশ থেকে শুরু করে মরা বড়াল নদী পর্যন্ত ৪ দশমিক ৮৫০ কিলোমিটার খনন কাজ প্রকল্প নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। কাজটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। খালের বর্তমান তলদেশ থেকে ৪ ফিট গভির ও তলার প্রস্থ ৬ফিট খনন কারার কথা রয়েছে। কাজটি পেয়েছে রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনাইটেড ব্রাদার্স। গত সোমবার থেকে খনন কাজ শুরু করা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) দেওয়া তথ্য বলছে- দুই কার্যাদেশে একই খালের ৪ কিলোমিটার খনন করা হয় ২০২২ সালে। প্রথম কার্যাদেশে ১ দশমিক ২৫ কিলোমিটার ও দ্বিতীয় কার্যাদেশে ২ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে খনন করা হয়। খননে খালের গভিরতা ছিল ১০ থেকে ১১ ফিট।
বড়াইগ্রাম বিএডিসির সহকারি প্রকৌশলী মো. জিয়াউল হক বলেন, ২০২২ সালে মির্জা মামুদ খালটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ কিলোমিটার খনন করে ৪২ হাজার ৩৯০ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন করা হয়। এতে খালের নাব্যতা ফিরে আসে। সেই থেকে খালপাড়ের কৃষকেরা খালের পানি চাষাবাদসহ প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করছেন। এই খালটি বর্তমানে খনন যোগ্য নয়। অথচ অযাচিতভাবে বিএডিসির এই খাল নিয়ম বহির্ভূতভাবে বেশি ব্যয়ে খনন শুরু করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তিনি বলেন, সরকারের খাল খননের মতো এই মহতি উদ্যোগ কাজে লাগিয়ে মির্জা মামুদ খাল বাদ দিয়ে নাব্যতা হারানো অন্য খাল খনন করার দাবি তাদের। অন্যাথায় সরকারি টাকার অপচয় হবে।
এদিকে নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাত করিম মোবাইল ফোন ধনেননি। তবে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন বলেন, তিনি নতুন এসেছেন। তারা যে মির্জা মামুদ খালটি খনন করছেন, সেটি বিএডিসির খাল এটি তারা অবগত নন। তাছাড়া প্রকল্পের ব্যয় কেন বেশি এবং একই খাল বিএডিসি খনন করেছে এসব তথ্য পানি উন্নয়ন বোর্ডে নেই।
খাল খনন কাজের উদ্বোধনের সময় একই খাল পুনরায় খনন প্রশ্নে জাতীয় সংসদের হুইপ নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকারের আমলে কোনো খাল খনন হয়নি। হয়েছে শুধু অনিয়ম-দুর্নীতি। খাল খনন হয়েছে কাগজে কলমে বাস্তবে হয়নি। এই খালটির খনন কাজ আমরা মনিটর করবো। কোনো রকম অনিয়ম করতে দেবো না।’

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top