মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে একটি কথিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘স্বপ্নতরী ফাউন্ডেশন’ নামধারী সংগঠনের আড়ালে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় কর্মসূচি বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
সোমবার (২৩ মার্চ) চিলাহাটি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উক্ত কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে এ আয়োজনকে ঘিরে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা তুলে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ চিলাহাটি’র পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন দাখিল করা হয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে, যারা অতীতে বিতর্কিত রাজনৈতিক অবস্থানে ছিল। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ, শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। এমনকি পূর্বে একই ধরনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে, যাতে একাধিক ব্যক্তি আহত হন।
স্থানীয়দের দাবি, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে যে কোনো সময় বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটতে পারে। তারা স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেন, অনুষ্ঠানের দিন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, ২০২২ সালের একটি ছাত্রলীগ কমিটির সঙ্গে ‘স্বপ্নতরী ফাউন্ডেশন’-এর বর্তমান ও বিলুপ্ত কমিটির একাধিক সদস্যের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ছাত্রলীগ কমিটির সভাপতি সুলতানুল আরেফিন তামিম সংগঠনটির সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি ইমরান ইসলাম উপ-অর্থ সম্পাদক, নাজমুল হাসান সাংগঠনিক সম্পাদক, জাহিদুল ইসলাম জনি দপ্তর সম্পাদক, শাহরিয়ার হোসেন শাদ উপ-পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক এবং শাওন ইসলাম পাভেল যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়াও ১৬১ সদস্যের কমিটির অনেকেই ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তবে বিষয়টি জনসমক্ষে আসার পর সংগঠনটির পক্ষ থেকে পুরো কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
স্বপ্নতরী ফাউন্ডেশনের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আবু ফারহান বলেন, “কমিটি গঠন করা হয়েছিল জুলাই আন্দোলনের আগেই। সে সময় কয়েকজন ছাত্রলীগের সদস্য যুক্ত থাকলেও বর্তমানে তারা পলাতক। মেয়াদ শেষ হওয়ায় কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। তবে বিতর্কের কারণে প্রশাসন আমাদের কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো।”
অন্যদিকে ডোমার থানার এসআই শৈলেন চন্দ্র জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় পুরো চিলাহাটি এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।