ইমতিয়াজ, জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের গুঞ্জনে শীর্ষ পদের দৌড়ে আলোচনার তুঙ্গে রয়েছেন বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাহিয়ান বিন হক অনিক। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং অগণিত ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করেও মাঠ না ছাড়ায় তাকে আগামীর যোগ্য নেতা হিসেবে দেখছেন সাধারণ কর্মীরা।
২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন অনিক। সেই থেকে আজ অবধি প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তার রাজনৈতিক জীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য মাইলফলক:
দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রাম: বিগত ১৩ বছর ধরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের প্রতিটি আন্দোলনে রাজপথে থেকেছেন সম্মুখসারিতে।
কারাভোগ ও নির্যাতন:
* ২০১৩ সাল: মাত্র ২০ বছর বয়সে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার হয়ে নির্যাতনের শিকার হন।
* ২০১৬ সাল: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ফ্যাকাল্টিতে ছাত্রলীগের সশস্ত্র হামলায় ৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ২৪ দিন কারাভোগের পাশাপাশি দীর্ঘ দুই বছর আদালতের বারান্দায় হাজিরা দিতে হয়েছে তাকে।
* জুলাই বিপ্লব: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও সক্রিয়ভাবে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।
রাজনীতি নিয়ে নিজের অটল বিশ্বাসের কথা জানিয়ে নাহিয়ান বিন হক অনিক বলেন, ”আমি সুদিন বা দুর্দিন দেখে বিএনপি করিনি, করেছি আদর্শের টানে। যখন বর্তমানের অনেক তথাকথিত নেতা রাজনীতিতেই আসেনি, তখন থেকেই আমি ত্যাগের পথ বেছে নিয়েছি। সংগঠনের শৃঙ্খলা ও জ্যেষ্ঠতা মেনে কমিটি গঠন করা হলে দল শক্তিশালী হবে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জাতীয়তাবাদের পতাকাতলে থাকতে চাই।”
জবি ছাত্রদলের তৃণমূল কর্মীদের মতে, দুঃসময়ে যারা দলকে আগলে রেখেছেন, তাদের হাতেই নেতৃত্ব আসা উচিত। তারা মনে করেন, অনিকের মতো পরীক্ষিত ও ত্যাগের মানসিকতাসম্পন্ন নেতা নেতৃত্বে আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে ছাত্রদলের অবস্থান আরও সুসংহত ও শক্তিশালী হবে।