২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৮ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

এমপির নাম ঘোষণা নিয়ে নীলফামারীতে বিএনপি–জামায়াত উত্তেজনা

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:

মহান স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় অনুষ্ঠানের মঞ্চে চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে নীলফামারীতে। প্রধান অতিথি হিসেবে সংসদ সদস্যের নাম ঘোষণা না করাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি একপর্যায়ে এতটাই ঘনীভূত হয় যে, অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার।

বুধবার সকালে ডোমার হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ বিন আমিন সুমন ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদ সদস্য ও জামায়াতের জেলা আমীর অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তারের নাম প্রধান অতিথি হিসেবে ঘোষণা করেননি। এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে উপস্থিত জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে।

ঘটনার একপর্যায়ে সংসদ সদস্য অনুষ্ঠান ত্যাগ করে বের হয়ে যাওয়ার সময় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী তাকে লক্ষ্য করে ‘রাজাকার’ ও ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ বলে স্লোগান দেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন সঞ্চালক মাসুদ বিন আমিন সুমন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া স্ক্রিপ্টে প্রধান অতিথির কোনো উল্লেখ ছিল না। এরপরও এমপি মহোদয়কে যথাযথ সম্মান দিয়ে আসন গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছিল এবং তিনি আসনও গ্রহণ করেন। কিছু দুষ্কৃতিকারী ইচ্ছাকৃতভাবে অনুষ্ঠানকে বিশৃঙ্খল করতে উসকানি দিয়েছে।”

অন্যদিকে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার বলেন, “অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবেই চলছিল। তবে এ ধরনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দলীয় ব্যক্তির পরিবর্তে সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে সঞ্চালনা করা উচিত। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন আরও সতর্ক থাকবে বলে আশা করি।”

ডোমার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নিয়াজ মেহেদী জানান, “অনুষ্ঠানে সামান্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আমরা আশা করি, বিষয়টি নিয়ে আর কোনো বাড়াবাড়ি হবে না।”

জাতীয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে এমন উত্তেজনা ও রাজনৈতিক বিরোধের প্রকাশ স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহল বলছেন, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এই দিবসে দলীয় দ্বন্দ্ব নয়, বরং সম্মিলিত শ্রদ্ধা ও সংযমই হওয়া উচিত প্রধান অঙ্গীকার।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top