মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এবিষয়ে জেলা প্রশাসন ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পল্টুন থেকে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পরপরই নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য উদ্ধারকারী জাহাজ “হামজা” ঘটনাস্থলে যোগ দেয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল উদ্ধার হওয়া ১৬ জনের মরদেহের সঙ্গে আজ সকাল পর্যন্ত আরও ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। এদের মধ্যে ২৪টি মরদেহ ইতোমধ্যে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ২টি মরদেহের স্বজনরা এখনও যোগাযোগ না করায় তা হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন— রেহেনা আক্তার (৬১), মর্জিনা খাতুন (৫৬), রাজীব বিশ্বাস (২৮), জহুরা অন্তি (২৭), কাজী সাইফ (৩০), মর্জিনা আক্তার (৩২), ইস্রাফিল (৩), সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), ফাইজ শাহানূর (১১), তাজবিদ (৭), আরমান খান (৩১) (চালক), নাজমিরা ওরফে জেসমিন (৩০), লিমা আক্তার (২৬), জোস্ন্যা (৩৫), মুক্তা খানম (৩৮), নাছিমা (৪০), আয়েশা আক্তার সুমা (৩০), সোহা আক্তার (১১), আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), আরমান (৭ মাস), আব্দুর রহমান (৬), সাবিত হাসান (৮), আহনাফ তাহমিদ খান (২৫), উজ্জ্বল খান (৩১), আশরাফুল ইসলাম (২৪) ও মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৫৪)।
এছাড়া, এখন পর্যন্ত তিনজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এবিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন, আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সদস্য সচিব গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন), সদস্য দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বিআইডব্লিউটিসি’র মহাব্যবস্থাপক, সদস্য ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর উপ সহকারী পরিচালক।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জানান, নিখোঁজদের উদ্ধারে ডুবুরি দলের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে, এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ফেরিঘাট এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।