নিজস্ব প্রতিনিধি:
দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কয়েকটি কোম্পানির সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে, ফলে বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল অনেক জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে না। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৩৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি।
এদিকে মিলমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সরকারকে চিঠি দিয়ে নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০৭ টাকা এবং ৫ লিটারের বোতল ১,০২০ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। তবে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নতুন দাম কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। টিকে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আতহার তসলিম জানান, বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারেও সমন্বয় প্রয়োজন।
অন্যদিকে ভোক্তাদের অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, নির্ধারিত দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে না এবং ডিলাররা সরবরাহ বন্ধ রেখেছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট রোধে অভিযান জোরদার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সাম্প্রতিক অভিযানে সারা দেশে ১ লাখ ৪২ হাজার লিটারের বেশি ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মজুত চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, বাজার তদারকির ঘাটতির কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর নেতারা বলছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি না থাকলে ভোক্তারা স্বস্তি পাবেন না।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে বর্তমান দামই যথেষ্ট সমন্বিত রয়েছে, তাই নতুন করে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।