১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

নীলফামারীতে ভুয়া কাবিননামা দেওয়ায় কারাগারে কাজী

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:

বিবাহের ভুয়া কাবিননামা প্রদানের অভিযোগে নীলফামারী সদরের ১০ নম্বর কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) আব্দুল মজিদ ওরফে এম এ মজিদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জ আমলী আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী এই আদেশ প্রদান করেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল নীলফামারী সদরের হাড়োয়া ধনীপাড়া এলাকার আলিমুদ্দিনের ছেলে রমজান আলীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর কালিকাপুর খামাতপাড়া গ্রামের ছাইদুল ইসলামের মেয়ে মেরি আক্তারের বিয়ে হয়। ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের কিছুকাল পর থেকে স্বামী রমজান আলী তার স্ত্রী মেরির কাছে ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। বাবার বাড়ি থেকে দাবিকৃত টাকা এনে দিতে না পারায় মেরির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। এই ঘটনায় মেরি আক্তার বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালীন বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষ আদালতে কাবিননামা দাখিল করেন। তবে একই বিয়ের বিপরীতে দুটি ভিন্ন ধরনের কাবিননামা জমা পড়ায় আদালতের সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরবর্তী পর্যালোচনায় নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী আব্দুল মজিদের সরবরাহকৃত কাবিননামাগুলো ভিন্ন ও ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হয়। জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় আদালত কাজীকে তাৎক্ষণিক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান শাসন জানান, একই বিয়ের বিপরীতে দুই ধরনের কাবিননামা প্রদান করে কাজী আইন লঙ্ঘন করেছেন। আদালতের কাছে এই জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন।

এদিকে কাজির আটকের বিষয়ে জেলা জুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। আহসান হাবিব নামে এক যুবক বলেন, আব্দুল মজিদ কাজি একজন প্রতারক তিনি আমার বিয়ের কাগজও দুই ধরনের দিয়েছেন এটা নিয়ে আদালত মামলা চলমান। এর বিচার চাই।

নবীজুল ইসলাম নবীন একজন সংবাদকর্মী বলেন, আব্দুল মজিদ কাজি এরকম শত শত জালিয়াতি বিবাহ রেজিস্টার এর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

রতন আহমেদ নামে একজন ফেসবুকে কমেন্ট করেছেন, কাজির কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক, তা নাহলে এসব কাজি বেপরোয়া হয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করবেন।

আব্দুস ছালাম নামে একজন আইনজীবী বলেন, আব্দুল মজিদ কাজির মাধ্যমে অনেক সাধারণ মানুষ প্রতারণার স্বীকার হয়েছে। তার নামে আদালতে অনেক মামলা চলমান রয়েছে। অনেক মামলা তিনি হাজিরা দেন না। তার কারণে পারিবারিক মামলা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জেলা কাজি সমিতির সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, কুন্দুপুকুর ইউনিয়নে দুইজন কাজি রয়েছে যা নিয়ে বিতর্কিত আছে, কাউকে বৈধ কাজি বলবো না। এরপরও আব্দুল মজিদ বেপরোয়া হয়ে অসংখ্য ভুয়া নিকাহ নামা তৈরি করে মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন। গত মাসে বরিশালের একজন সেনাবাহিনীর লোকের সাথে তিনি প্রতারণা করেছেন। বর্তমান এরকম অনিয়মের কারণে তার শাস্তি হওয়া উচিৎ।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top