মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থায় খরচ হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। এতো টাকা খরচ করে তৈরি করা ড্রেনেজ ব্যবস্থায় এলাকাবাসীর উপকারের জায়গায় ক্ষতি হয়েছে বেশি। এমনকি ড্রেনে পানি প্রবেশ ও নিষ্কাশনের পথ না থাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে সামান্য বৃষ্টিতে জমে থাকছে পানি। খসে যাচ্ছে বিটুমিন। এ জন্য কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা। বলছেন, এখানে হয়েছে পুকুর চুরি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। আর সড়ক বিভাগ বলছে, সড়কে পানি যাতে না জমে সে জন্য নেওয়া হবে ব্যবস্থা।
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়ার বাংলাদেশ হ্যাচারিচ থেকে দৌলতদিয়া ঘাট পর্যন্ত চার কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে ফোরলেন সড়ক। যার আগে ও পিছনে বাদ দিয়ে মাঝে ১ হাজার ২০০ মিটার এলাকায় ড্রেন নির্মাণ করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সাইদুর রহমান কনস্ট্রাকশন কাজটি শেষ করেছে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে। মূল সড়ক থেকে উচু ড্রেন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কেই জমছে পানি। মাঝে মধ্যেই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ময়লা আবর্জনাযুক্ত পানিতে নষ্ট হচ্ছে পথচারীদের জামা কাপড়।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা, জাকির হোসেন, আর্জিনা বেগম, শরিফুলসহ কয়েকজন বলেন, কয়েক কোটি টাকা খরচ করে করা এ ড্রেন। আমাদের এ ড্রেন কোন কাজেই আসেনি। বরং ক্ষতি হয়েছে চলাচলের। তরিঘরি করে করা এ কাজে অর্থের লোপাট হয়েছে। হয়েছে লোক দেখানো কাজ। যার সাথে জড়িত সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারাও।
তারা আরও বলেন, সড়কের পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ করা হলেও ড্রেনের দুই পাশের মুখ পরিস্কার ভাবে খোলা রাখা হয়নি। দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ও এরশাদের দোকানের মাঝামাঝি একটি পুকুরে পানি বের হওয়ার মুখ দেওয়া হলেও শামসু মাষ্টারপাড়ার করিম ফিলিং স্টেশন এলাকায় ড্রেনের কোন মুখ নেই। পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় বাড়ীর সামনে পানি জমে যাচ্ছে। উচু ড্রেন হওয়ার কারণে বাড়ীতে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তারা বলেন, ড্রেনটি দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাট পর্যন্ত হওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। ঠিকাদার বিল তুলে নিয়ে গেছে। এ কাজের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, বিষয়টি শোনার পর পরিদর্শন করে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নজরে এনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কুমারেশ বিশ্বাস বলেন, কেন পানি সড়কে আটকে থাকছে ও স্থানীয়রা ভোগান্তিতে পড়ছে সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একাধিকবার জানতে চাইলেও ড্রেনটির নির্মাণ ব্যয় জানাতে রাজি হয়নি সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা। অচিরেই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ক্ষতির সম্মুখিন হতে পারে দৌলতদিয়ার ড্রেন নির্মাণের ১২ শত মিটার এলাকার মহাসড়ক।