১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৪শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ৩টি নতুন পল্টুন অলস পড়ে থাকায় চলছে ধান শোকানোর কাজ

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

২১ জেলার প্রবেশদ্বার রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট। এ ঘাটে ঘাট সংকট, এ্যাপোচ সড়ক বেহাল, পল্টুন ঝুঁকিপুর্ণ সহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ৩টি পল্টুন নির্মাণ করা হলেও প্রায় এক বছরের অধিক সময় ধরে পড়ে আছে। ব্যবহার না করায় পড়ে থেকেই নষ্ট হচ্ছে পল্টুনগুলো। ফলে ওই অলস পড়ে থাকা পল্টুনে চলছে স্থানীয়দের ধান শোকানোর কাজ।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের ২, ৫ ও ৬নং ফেরি ঘাট এলাকায় পড়ে আছে নতুন পল্টুন। সেখানে ফেরি ভেড়ানোর কাজ করা হয়না। এ্যাপোচ সড়ক নেই। স্থানীয়রা পল্টুনের উপর ধান শোকানোর কাজ করছেন।
ঘাট সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে ৭টি ঘাট রয়েছে। নদী ভাঙনের কারণে এসকল ঘাটের মধ্যে ১, ২, ৫ ও ৬ নং ঘাট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। যানবাহন ও যাত্রী পারাপারের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ৩, ৪ ও ৭নং ফেরি ঘাট। নতুন ৩টি পল্টুন নির্মাণ করা হলেও এখনও সচল হয়নি। ফেরি ঘাটে নদীর পানি কমে যাওয়ার কারণে সংযোগ সড়ক বেশি ঢালু ও খাড়া হয়ে পড়েছে। এ কারণে যানবাহনগুলোকে ফেরিতে উঠতে ও নামতে গিয়ে চরম বেগ পেতে হচ্ছে। ফলে প্রায়ই ভারী যানবাহনগুলো ফেরিতে উঠতে ও নামতে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা।

ধান শোকানোর কাজে ব্যস্ত থাকা নারী নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, নতুন এ পল্টুন প্রায় এক বছরের অধিক সময় ধরে পড়ে আছে। কোন কাজে আসে না। এ কারণে ধান শোকাচ্ছি। বিকেলে লোকজন এসে এখানে বসে পদ্মা নদীর বাতাস ও পরিবেশ উপভোগ করেন।

রিকসা চালক আনিস বলেন, দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে প্রতিনিয়তই নানা সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। নদী ভাঙন এলাকা হওয়ায় ঘাট পরিবর্তন হয়। ঘাট আধুনিকায়নের কাজ হবে শুনে আসলেও তা হয়নি। প্রায় এক বছরের অধিক সময় ধরে কয়েক কোটি টাকা ব্যায়ে ৩টি নতুন পল্টুন নির্মাণ করা হলেও তা ব্যবহার হচ্ছে না। এতো বড় একটি ট্যাজেডি হলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি।

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের মাছ ব্যবসায়ী চাঁন্দু মোল্লা বলেন, নদী ভাঙন প্রতিবছরই হয়। যখন ভাঙে তখন শুধু বস্তা ফেলানো হয়। এক শুষ্ক মৌসুমে বস্তা ফেললে কাজে লাগে, কিন্তু এখন ফেলালে বস্তা গুনে ফেলতে হয়। বর্ষা মৌসুমে ফেলালে তো গুনতে হয় না। আমরা চাই ভাঙন রোধে দৌলতদিয়া ঘাটে এখনই বস্তা ফেলানো হোক।

স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী ও চালকরা জানিয়েছেন, রেলিংবিহীন অরক্ষিত পন্টুন, ঢালু ও খানাখন্দে ভরা সংযোগ সড়ক, ফেরিতে আগে উঠতে যানবাহন গুলোর প্রতিযোগিতা এবং অব্যবস্থাপনা ও সবার অসচেতনতায় ফেরিঘাট যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। যার কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার পেছনে স্থানীয় বিআইডব্লিউটিসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে।

তারা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী, ঘাট পার হতে আসা যানবাহন পন্টুনে ওঠার আগের সড়কে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়াবে। এরপর ঘাটে আসা ফেরি থেকে সব যানবাহন নেমে যাওয়ার পর অপেক্ষায় থাকা যানবাহনগুলো ফেরিতে উঠবে। কিন্তু নিয়ম না মেনেই আগের মতোই ফেরিতে উঠছে বাসগুলো। যাত্রী নামিয়ে ফেরিতে উঠার কোন কার্যক্রম বাস্তবায়ন হয়নি। বাস ভর্তি যাত্রী নিয়ে চলছে ওঠানামার কাজ। কিছু কিছু সচেতন যাত্রীরা ফেরিঘাটে এসে আতঙ্কে বাস থেকে নেমে গেলেও সিংহভাগ যাত্রীদের মাঝে নেই সচেতনতা। আবার চালকদের মাঝেও নেই কোনো সচেতনতার বালাই। তারাও প্রতিযোগিতা করে কে কার আগে ফেরিতে উঠবে সেই চেষ্টায় রয়েছে। এসব দেখভালের বিষয়ে উদাসীন ঘাট কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রবিউল আলম বলেন, এটা নদী ভাঙন কবলিত এলাকা। প্রতি বছরই ভাঙনের সম্ভবনা থাকে। তাই আমরা চাইলেও স্থায়ীভাবে পাকা করে ঘাট নির্মাণ করার সুযোগ নেই। আমাদের নদীর পানি যখন বাড়ে এবং যখন কমে তখন ঘাটগুলোকে পানির সঙ্গে সমন্বয় করে উঠাতে ও নামাতে হয়। আমাদের ঘাটের ঢালে কোনো সমস্যা নেই, এ কারণে গাড়ি উঠানামা করতেও সমস্যা নেই। তবে, পল্টুনগুলোর কাজ শেষ হলেই নতুন করে বসানো হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top