১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১লা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বাজেট নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জবি উপাচার্যের

ইমতিয়াজ, জবি প্রতিনিধি:

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রেক্ষিতে আজ সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীনের আহ্বানে তাঁর কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেন, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট এখনও প্রণয়নই হয়নি। সে অবস্থায় বাজেটসংক্রান্ত অবান্তর ও ভিত্তিহীন তথ্য কীভাবে এবং কারা প্রচার করছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সবার চেতনার অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়কে ধারণ করতে না পারলে এর অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হবে। বাজেট বা অন্য যেকোনো বিষয়ে কারও জানার প্রয়োজন হলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। অযাচিত সমালোচনা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার গঠনমূলক কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করে।”

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৫-২০২৬ এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে যে পর্যালোচনা প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসম্পূর্ণ ও তথ্যগতভাবে অযথার্থ। তিনি জানান, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ এখনও চলমান এবং এ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) থেকে বাজেট বরাদ্দসংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে পৌঁছেনি।

তিনি আরও জানান, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষার্থীদের বিশেষ বৃত্তির জন্য ৫৬ কোটি টাকা এবং আবাসিক হল নির্মাণের জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দসহ মোট ৮১ কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছিল। এছাড়া শিক্ষার্থীদের অন্যান্য প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে মোট ২৯৭ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়।

অধ্যাপক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে আগের মতো আবাসিক হল নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে। এমতাবস্থায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় বাজেট প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী ১৬ জুন বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় বাজেটসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামুলক আলোচনা হবে। এরপর ২৩ জুন অর্থ কমিটির সভা এবং ২৯ জুন সিন্ডিকেট সভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের প্রাথমিক বরাদ্দের তথ্যকে বাজেট প্রণয়ন হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। বাজেট বরাদ্দ ও বাজেট প্রণয়ন দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। ২০২৫-২০২৬ এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে যেসব তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সামঞ্জস্য নেই। এছাড়া ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট নীতিমালা, দিকনির্দেশনা ও আয়-ব্যয়ের নিয়মাবলি সংক্রান্ত কোনো সরকারি পরিপত্রও এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পৌঁছেনি।

তিনি বলেন, অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। এতে শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সকলেরই ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিক প্রতিনিধিরা বাজেটসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন। উপাচার্য এবং অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক তাদের প্রশ্নের জবাব দেন এবং বাজেট প্রণয়নের বর্তমান অগ্রগতি ও বাস্তব অবস্থা তুলে ধরেন।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ মো. গিয়াস উদ্দিন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এবং বহিরাঙ্গন কার্যক্রমের পরিচালক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালকবৃন্দ, কর্মকর্তা সমিতি ও কর্মচারী সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top