ইমতিয়াজ, জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যারিয়ার ক্লাব ও প্রাইম ব্যাংক পিএলসি’র যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ব্যাংকিং খাতে ক্যারিয়ার গঠনে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে ‘Engaging & Inspiring Youth in Banking’ শীর্ষক অনুষ্ঠান আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যায়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের শুধু শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পাঠদানই যথেষ্ট নয়; তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠন ও কর্মক্ষেত্রে সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যাতে তারা নিজেদের কাঙ্ক্ষিত পেশাগত অবস্থানে পৌঁছাতে পারে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট সংস্থার সঙ্গে ক্যারিয়ারভিত্তিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, করপোরেট জগতে যারা নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন, তাদের উচিত শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে এ ধরনের কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়া। বর্তমান সময়ে ব্যাংকিং খাত একটি সম্ভাবনাময় কর্মক্ষেত্র উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের এ ধরনের অনুষ্ঠান থেকে অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাঃ আলী নূর। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের মডারেটর মোঃ শফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের মূল পর্বে ব্যাংকিং খাতে ক্যারিয়ার গঠন, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মক্ষেত্রে সফলতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসি’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যান্ড স্কুল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান এম এম মাহবুব হাসান এবং এইচআর রিসেপশনের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ সিরাজ উদ্দিন চৌধুরী। কী-নোট স্পিকার হিসেবে তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সুযোগ-সুবিধা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এম এম মাহবুব হাসান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, “দিনশেষে আপনি কত মানুষকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারলেন, সেটার উপরই আপনার প্রকৃত সফলতা নির্ভর করছে। কর্মক্ষেত্রে সফল হতে হলে অনেক সময় আবেগকে কবর দিতে হয়।” বর্তমান যুবসমাজের চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরে তিনি কর্মসংস্থান সংকট, মানসিক স্বাস্থ্য, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে বাস্তবতার ঘাটতি এবং আর্থিক সচেতনতার অভাবের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “টাকাকে কীভাবে সঠিক উপায়ে কাজে লাগাতে হয়, তা আমরা অনেকেই জানি না।” শিক্ষার্থীদের আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে তিনি রবার্ট কিয়োসাকির বিখ্যাত ‘রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড’ বইটি পড়ার পরামর্শ দেন এবং বড়লোক বাবার সন্তানের জীবনযাত্রার মনস্তত্ত্ব তুলে ধরেন। বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই যেকোনো একটি ব্যাংকে ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট খোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যখনই বাবা টাকা দেবেন, তখন নিজেকে তিনটি প্রশ্ন করতে হবে— টাকা কোথা থেকে, কীভাবে এবং কেন আসলো? টাকা কোথায়, কীভাবে এবং কেন গেল? এর মাধ্যমেই দায়িত্বশীল আর্থিক ব্যবস্থাপনা বা রেসপন্সিবল মানি ম্যানেজমেন্ট শেখা সম্ভব।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, “কেবল সফলদের নয়, ব্যর্থদের গল্প ও কথাও শুনতে হবে, যাতে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়।” উদাহরণ হিসেবে তিনি ওয়ারেন বাফেটের ব্যবসায়িক নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, “ওয়ারেন বাফেটের পলিসি অত্যন্ত স্ট্যাবল বা সুনির্দিষ্ট। তিনি একটি স্ট্যাবল বিজনেস পরিচালনা করছেন এবং ইলন মাস্কের মতো রাতারাতি শীর্ষে যাওয়ার প্রতিযোগিতা করছেন না।” এছাড়া তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার শিশুদের শৈশব থেকেই যে ‘মানি ম্যানেজমেন্ট ট্রি’ বা অর্থ ব্যবস্থাপনার বুনিয়াদি শিক্ষা দেওয়া হয়, তা বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন।
বক্তব্য শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা ব্যাংকিং সেক্টর ও ক্যারিয়ার নিয়ে তাদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসা তুলে ধরেন এবং সেরা প্রশ্নদাতাদের পুরস্কৃত করা হয়। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের করপোরেট ইন্টারভিউয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা দিতে একটি ‘লাইভ মক ইন্টারভিউ’ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চমৎকার পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সেরা পারফর্মারকে বিশেষ ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে জবি ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি একেএম তামীম রহমান, সাধারণ সম্পাদক রব্বানী রাশা রাতুলসহ ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং বক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে ক্যারিয়ার গঠনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান।