মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার মাঝবাড়ী গ্রামের কৃতি সন্তান নাইমুর রহমান ৪৭তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস)-এ কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তার এ সাফল্যে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
নাইমুর রহমান রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার মাঝবাড়ী ইউনিয়নের মাঝবাড়ী গ্রামের মোঃ আবুল কাশেম খান এবং হাবিবা সুলতানা ছেলে।
শিক্ষাজীবনের শুরু মাঝবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে তিনি ২০১৫ সালে মাঝবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং ২০১৭ সালে রাজবাড়ী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে ভর্তি হন। বর্তমানে হর্টিকালচার বিষয়ে মাস্টার্সের গবেষণা কাজ সম্পন্নের পথে রয়েছেন।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএসে) এ তার সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা নিয়ে আইইএলটিএস পরীক্ষাও দেন। তবে হাল না ছেড়ে ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন এবং শেষ পর্যন্ত কৃষি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এছাড়া তিনি ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষাও দিয়েছেন, যার ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি।
চাকরিজীবনেও তিনি দ্রুত সাফল্য অর্জন করেছেন। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে অফিসার (জেনারেল) হিসেবে যোগদান করেন। পরে একই প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র অফিসার পদেও নিয়োগ পান।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে নাইমুর রহমান বলেন, “গত ছয় মাস ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। একই সঙ্গে চাকরি, বিসিএস পরীক্ষা এবং মাস্টার্সের থিসিস নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে ১০ম গ্রেডের চাকরি থেকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বিসিএস জার্নি মোটেও সহজ ছিল না। পরিবার ও আপনজনের দোয়া আমাকে সবসময় সাহস জুগিয়েছে। বিশেষ করে আমার মা সবসময় বলতেন, ‘তুমি কষ্ট করে যাও, আল্লাহ তোমাকে তোমার যোগ্য স্থানে পৌঁছে দেবেন।’ আজ সেই কথাই সত্য হয়েছে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে নাইমুর রহমান জানান, কৃষি ক্যাডারে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিদেশে পিএইচডি করার স্বপ্ন রয়েছে তার। তিনি রাজবাড়ীর কৃষকদের কাছ থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চান।
তিনি বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। খেটে খাওয়া কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নই দেশের সামাজিক অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কৃষকের স্বার্থকে আরও বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরতে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই।”