১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৪শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

টানাপোড়েন শুরু হয়েছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নেওয়া রাশিয়ার ঋণ পরিশোধ নিয়ে

রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নেওয়া ঋণ পরিশোধ নিয়ে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ঋণের আসল পরিশোধের সময় বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব দিলেও তাতে অগ্রগতি নেই। এ বিষয়ে রাশিয়ার আগ্রহ এখন খুবই কম; বরং দেশটি এখন সুদের অর্থ চীনা ব্যাংকের মাধ্যমে নিতে চায়। এতে অবশ্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দিক থেকে কোনো সবুজসংকেত নেই। ফলে পুরো পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়েছে সরকার।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার রাশিয়ার ঋণে নেওয়া রূপপর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কেন্দ্রসহ বড় প্রকল্পগুলো নিয়ে সম্পাদিত ঋণচুক্তিগুলো পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে সার্বিকভাবে ঋণ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের একধরনের টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে—এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগসহ (ইআরডি) সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়ার এক্সিম ব্যাংকের কাছ থেকে ১ হাজার ২৬৫ কোটি ডলার ঋণ নেয়। ২০১৬ সালে উভয় পক্ষের মধ্যে এ–সংক্রান্ত চুক্তি হয়। ২০১৭ সালে ঋণের অর্থ আসা শুরু হয়। ইতিমধ্যে ঋণের সুদ পরিশোধ শুরু হয়ে গেছে। প্রতিবছর দুই কিস্তিতে ১১ কোটি ডলার পরিশোধ করার কথা। ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকায় সে দেশের এক্সিম ব্যাংকে এই অর্থ পাঠানো যাচ্ছে না। তা এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ হিসাবে জমা হচ্ছে।

১০ বছর গ্রেস পিরিয়ড শেষে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণের মূল কিস্তি (আসল পরিশোধ) শুরু হওয়ার কথা। প্রতিবছর ছয় মাস পরপর দুই কিস্তিতে মোট ৩৮ কোটি ডলার আসল পরিশোধ করতে হবে। এর সঙ্গে দিতে হবে ১১ কোটি ডলারের সুদ। অবশ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুদ ও আসলের পরিমাণ কিছু কমবেশি হতে পারে।

পরমাণু শক্তি কমিশনের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানান, কোডিড ও ইউক্রেন–রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে প্রকল্পটির কাজে বিঘ্ন ঘটেছে। তাই ঋণের আসল পরিশোধ দুই বছর পেছানো নিয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। এ জন্য দুই দেশকে একটি প্রটোকলে সই করতে হবে।

রাশিয়ার ঋণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে খরচ হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। গত জুলাই মাস পর্যন্ত প্রকল্পের ৬৯ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিদেশি ঋণ নেওয়ার অগ্রাধিকারে পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। তাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় আছে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামিক ডেভেলমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি) এ ধরনের বহুজাতিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। আগের আওয়ামী লীগ সরকার চীন, রাশিয়া ও ভারতের মতো দ্বিপক্ষীয় উৎস থেকে ঋণ নিতে বেশি আগ্রহী ছিল।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top