৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৭ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানা শমসেরনগরে ‘ডানকান ব্রাদার্স টি এস্টেট’-এর শমসেরনগর চা বাগানে দৃষ্টিনন্দন

সৈয়দ শিহাব উদ্দিন মিজান, মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ

শমসেরনগর ক্যামেলিয়া লেকটির অবস্থান। নীল আকাশের নিচে চারদিকে ছোট-বড় পাহাড়ি টিলা ও সারি সারি চা বাগান। সব সময়ই ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। স্থানীয়দের কাছে এ লেকটি ‘বিসলার বান’ বা ‘ক্যামেলিয়া বাঁধ’ নামে পরিচিত। তবে এর প্রকৃত নাম ‘ক্যামেলিয়া লেক’।

শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য বাংলাদেশের প্রায় সব চা বাগানেই ছোট বড় লেক দেখতে পাওয়া যায়। এসব বাগানের লেকগুলো সাধারণত চা বাগানের নিচু জমিতে বা পাহাড়ি টিলার পাদদেশে হয়ে থাকে। কিন্তু ক্যামেলিয়া লেকের বৈশিষ্ট্য হলো এটি বাগানের প্রায় শেষ প্রান্তে টিলার ওপরাংশজুড়ে অবস্থিত। লেকটিতে যাওয়ার আঁকাবাঁকা মেঠোপথে চোখে পড়ে শত শত বানরের পাল।

‘ক্যামেলিয়া লেকটি’ পর্যটকদের সর্গোদ্যান হিসেবে দেশে-বিদেশে সুপরিচিত মৌলভীবাজার জেলার পর্যটন শিল্পে একটি নতুন সংযোজন। এখানে যেতে শমসেরনগর-চাতলাপুর চেকপোস্ট সড়ক ধরে দক্ষিণ দিকে প্রায় ২ কিলোমিটার সামনে গেলেই হাতের ডানে দেখা মেলে ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ওই বাগানের শ্রমিক ও আশপাশের প্রায় ৯০ হাজার জনসংখ্যার নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ক্যামেলিয়া হাসপাতালের। হাসপাতালটিকে পেছনে রেখে আরো ২ কিলোমিটার মেঠোপথ পাড়ি দিয়ে দেখা মিলবে প্রকৃতির নিজ হাতে তৈরি করা অপরূপ ও চোখ ধাঁধানো মায়াবী লেকটির। লেকের পাশের পুরোটাই বালুকাময়। লেকের পানিই এ বাগানের চা শ্রমিকদের একমাত্র পানির উৎস। সুনছড়া চা বাগান থেকে ক্যামেলিয়া লেকের সৌন্দর্য মুগ্ধতা জাগানিয়া।

চা বাগান কর্তৃপক্ষ প্রাকৃতিক এ লেকটিতে কিছুটা কৃত্রিমতাজুড়ে দিয়েছেন। ইট-সিমেন্টের কিছু কৃত্রিম কাজ লেকটির সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। লেকটির পানির ওপরে একটি পাটাতন তৈরি করা হয়েছে। এখন ‘বিসলার বান’ বা ‘ক্যামেলিয়া লেক’ হয়ে উঠেছে অসাধারণ এক পর্যটন স্পট। লেকটির পাশে রয়েছে একটি ঘর। যেটি স্থানীয় চা শ্রমিকদের কাছে ‘ক্লাব ঘর’ নামে পরিচিত। এ ঘরে বা গাছের ছায়ায় পর্যাপ্ত সময় কাটানো সম্ভব। এখানে বিকালে গেলে পরিযায়ী পাখির কলতান আর জলকেলির দৃশ্য মনে পরম প্রশান্তি এনে দেবে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যারা প্রকৃতির সুরম্য জেলা মৌলভীবাজার ভ্রমণে যেতে চান তারা অবশ্যই ক্যামেলিয়া লেকটিকে ভ্রমণের তালিকায় রাখবেন। তবে মনে রাখতে হবে এ লেকটি যেহেতু চা বাগানের অভ্যন্তরে অবস্থিত সেহেতু লেকটিতে যাওয়ার আগে চা বাগান কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিলে ভালো হয়। লেকটি দেখতে গেলে একই সঙ্গে তিনটি পর্যটন স্পট দেখা সম্ভব। লেকটির পাশেই অবস্থিত অসাধারণ কারুকার্যময় ক্যামেলিয়া হাসপাতাল এবং মনোমুগ্ধকর গলফ মাঠ।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top