১লা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

শ্রীমঙ্গলের আমানতপুরে চার বাড়িতে হামলার অভিযোগ, বিচারের আশায় নিভৃতে কাঁদছে ভুক্তভোগীরা

সৈয়দ শিহাব উদ্দিন মিজান, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৬ নং আশিদ্রোন ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আমানতপুর গ্রামে গত ডিসেম্বর ২০২৫ সাল থেকে এলাকার একটি গ্রুপ জনৈক শফিক মিয়ার নেতৃত্বে এলাকায় অসহায় নিরীহ মানুষের বাড়ি-ঘরে হামলা ভাঙচুর ও নির্যাতন করে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে বিভিন্ন বাহানায় এ ধরনের দল বেঁধে হামলার ঘটনা ঘটে যাচ্ছে বলে সরেজমিনে জানা যায়।
এ সমস্ত ঘটনায় ভুক্তভোগীরা স্থানীয় পঞ্চায়েতের কাছে যেমন বিচার পাচ্ছে না, থানায় গিয়েও অভিযোগ করার ও সাহস পাচ্ছে না অনেকেই। এদিকে পঞ্চায়েতের মুরুব্বীরা দাবী করছে তাদের কথা তারা শুনছে না। ভুক্তভোগীদের দাবি থানায় গেলে পরবর্তীতে আমাদেরকে কেউ নিরাপত্তা দিতে পারবে না, তাদের ক্ষমতা বিশাল লোকজন ও অনেক।

সরে জমিনে জানা যায়, সর্বশেষ হামলার ঘটনা ঘটেছে গত রমজান মাসের ২৯ শে মার্চ দুপুর দুইটার দিকে। রাস্তায় টমটম রাখাকে কেন্দ্র করে শফিক মিয়া (৪৮) পিতা গণু মিয়া তার অনুগত একদল লোক নিয়ে অটোচালক শিপার মিয়ার বাড়িতে হামলা করে তাকে মারদোর ও তার স্ত্রীকে মারধর করে পরনের কাপড়চোপড় ছিঁড়ে ফেলে শ্রীলতাহানি ঘটায়। এসময় স্থানীয়রা তাদেরকে বাধা দিলে তাদের কেও মারধর করে।
এ ঘটনায় সাহস করে এই প্রথম অটোচালক শিপার মিয়া (২৫) শ্রীমঙ্গল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ এর নির্দেশে এসআই বাবলু সরেজমিন তদন্ত করে মূল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সরেজমিনে এলাকার পঞ্চায়েত মুরুব্বি সহ অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, এরূপ ঘটনা এটিসহ চারটি ঘটেছে, এর মধ্যে নিরীহ চেরাগ মিয়ার হিজরা সন্তানকে নির্যাতন করে তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাদেরকে ঘরে আটকে রাখে পরে শ্রীমঙ্গল থানা থেকে পুলিশ গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে প্রাণে বাঁচান। এছাড়াও জনৈক নান্নু মিয়া, শাহানুদ্দিন নামে তাদের বাড়িতেও হামলা করেছেন শফিকুল ইসলাম ও তার দলবল।
সর্বশেষ হামলার ঘটনা ঘটেছে অটোচালক শিপার মিয়া পিতা আঃ রহিমের বাড়িতে।

স্থানীয় পঞ্চায়েতের মুরুব্বীদের অনেকেই অভিযোগ করেন শফিক মিয়াও তার দলবল এলাকার বিচারের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে এভাবে একের পর এক হামলা ভাঙচুর করে যাচ্ছে। আমরা তাদেরকে বিচারে বসাতে পারছি না।
এ ধরনের নেক্কারজনক ঘটনা এলাকার মধ্যে যে কোন সময়ে একটি বড় ধরনের ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

এ ব্যাপারে পঞ্চায়েতের প্রধান মুরুব্বি হাজী হাজী আজমান উদ্দিন,হাজি আজির উদ্দিন ও সমাজসেবক সবুজ মিয়াসহ স্থানীয় অনেকের সাথে কথা বলে এর সত্যতা জানা যায়। এ সময় স্থানীয়রা অভিযোগ করেন শফিকুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেক আইডি খুলে বিভিন্ন ধরনের গুজব রটিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে থাকেন, এসময় শহরের চাউল ব্যবসায়ী কদর আলী নামে এক ব্যক্তি জানান তিনিও থানায় অভিযোগ করেছেন তার বিরুদ্ধে ফেক আইডি দিয়ে তার সম্মানহানি করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
এ সকল অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম এর সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন যে ওয়াজ মাহফিল কে কেন্দ্র করে তার সাথে এলাকার কয়েকজন লোক বিরোধিতা করে আসছেন তবে তিনি মূল ঘটনা অস্বীকার করেননি এবং তার বক্তব্য থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইম্মত খান নামে যে ফেইক আইডি পরিচালনা করেন তা তিনি স্বীকার করেছেন।
এ ব্যাপারে ওয়ার্ড মেম্বার মসুদ মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি ঘটনা অন্যের মাধ্যমে শুনেছেন বলে জানিয়েছেন এবং এর মীমাংসা করার চেষ্টা করছেন তবে বিস্তারিত বলতে পারেননি এবং একাধিকবার যে বিভিন্ন বাড়িতে হামলা হয়েছে তা আমেরিকা এমনকি ইমামের প্রতিও ঘটে থেকে এরকম এলোমেলো বুঝিয়ে তিনি এড়িয়ে গেছেন।

অপরদিকে অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বাবলুর সাথে এ প্রতিনিধির সরাসরি কথা হলে তিনি মুল ঘটনার সততা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

শ্রীমঙ্গলের আমানতপুরে এ পর্যন্ত চার বাড়িতে দল বেঁধে হামলার অভিযোগ:ভুক্তভোগীরা বিচারের আশায় কাঁদছে নিভৃতে

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top