মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
মুরাদনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তার অভাবে রাতের বেলায় অধিকাংশ ফার্মেসি বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। হঠাৎ অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা গুরুতর রোগীর জন্য জরুরি ওষুধের প্রয়োজন হলে রোগীর স্বজনদের দৌড়াতে হচ্ছে দূর-দূরান্তে, যা অনেক সময় রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই উপজেলার অধিকাংশ ফার্মেসি মালিকরা দোকান বন্ধ করে দেন। চুরি ও ডাকাতির আশঙ্কায় তারা রাতে দোকান খোলা রাখতে অনীহা প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং আশপাশের এলাকায় রাত ১০টার পর থেকে একটিও ফার্মেসি খোলা পাওয়া যায় না। এর ফলে জরুরি অবস্থায় রোগীর স্বজনদের কোম্পানিগঞ্জ, দেবিদ্দার বা নিকটবর্তী বড় বাজারে গিয়ে ওষুধ সংগ্রহ করতে হয়। এতে শুধু সময়ই নষ্ট হয় না, বরং রোগীর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই নাজুক। পুলিশ টহল কম হওয়ায় এবং আগের চুরির ঘটনাগুলোর সঠিক তদন্ত বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় ফার্মেসি মালিকরা ভয়ভীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তারা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহযোগিতা পেলে রাতেও দোকান খোলা রাখতে তারা আগ্রহী।
এদিকে, মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে একটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকার কথা থাকলেও প্রশাসনিক কারণে সেই ফার্মেসিটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয়দের একমাত্র ভরসাস্থলও হারিয়ে গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ওই ২৪ ঘণ্টা খোলা ফার্মেসিটি পুনরায় চালু করা হোক এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক, যাতে জনগণ জরুরি মুহূর্তে নিকটস্থ স্থান থেকেই প্রয়োজনীয় ওষুধ পেতে পারেন।
অপরদিকে, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোও এ পরিস্থিতিতে মারাত্মক ওষুধ সংকটে পড়ছে। ফলে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক জরুরি রোগীর চিকিৎসা বিলম্বিত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। অন্তত ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে—এমন জরুরি ডিউটি ফার্মেসির তালিকা নির্ধারণ, নিরাপত্তা জোরদার করা এবং রাতের টহল বাড়ানো প্রয়োজন। তারা মনে করেন, এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে জরুরি মুহূর্তে রোগীরা নিকটস্থ ফার্মেসি থেকেই প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করতে পারবেন, যা অনেক প্রাণ বাঁচাতে সহায়ক হবে।