১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

কক্সবাজারে নির্বাচনী সহিংসতায় যুবক খুন

কক্সবাজারে নির্বাচনী সহিংসতায় ঈদগাঁও উপজেলার পশ্চিম পোকখালীর ৪ নম্বর কেন্দ্রের মোটরসাইকেল প্রতীকের এজেন্ট ছফুর আলম (৩৫) নামে এক যুবকের হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২১ মে) উপজেলার মালমুরাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত ছফুর পশ্চিম পোকখালীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মালমুরাপাড়ার মৃত নমিউদ্দিনের ছেলে। তিনি ওই কেন্দ্রে মোটরসাইকেল প্রতীকের এজেন্ট ছিলেন। প্রার্থী সামসুল আলমের আত্মীয়ও হন তিনি। কিন্তু টেলিফোন প্রতীকের সমর্থকরা দাবি করেছেন ছফুর আলম তাদের কর্মী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্ত মৌলভী মুহাম্মদ আলম নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে নিহত ছফুর আলমের বাড়িতে আক্রমণ চালিয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরুর পর ঘণ্টা কয়েক সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চললেও বেলা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

পোকখালী, জালালাবাদ, ঈদগাঁওয়ের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী এক প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এমন খবর পেয়ে মধ্যম পোকখালী কেন্দ্রে গিয়ে হামলার শিকার হন মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী সামসুল আলম।

পোকখালী ইউনিয়নের পশ্চিম পোকখালী ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার জানান, নির্বাচনী সহিংসতায় অন্য প্রার্থীর লোকজন বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় লুটতরাজ চালানো হয়। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ছফুর আলমকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তাকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। যে কোনো সময় আরও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা।

অপরদিকে, ঈদগাঁও ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড কেন্দ্রে টেলিফোন ও মোটরসাইকেল প্রতীকের কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে টেলিফোন প্রতীকের কর্মী ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরীর নেতৃত্বে কয়েকশ লোক দরগাহপাড়া এলাকায় গিয়ে মোটরসাইকেল প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের বসত বাড়িতে হামলা চালায়। এ ধরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

হামলায় ভাদিতলার ইলিয়াসের ছেলে হেলাল উদ্দিন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। এ সময় বেশ কয়েকজন নারীও আহত হন বলে প্রকাশ পায়।

নির্বাচনী সহিংসতায় ঈদগাঁওতে মৃত্যু ও আহতের বিষয়ে জানতে ঈদগাঁও-পেকুয়া-চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিভীষণ কান্তি দাশকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ঈদগাঁও থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, নির্বাচনী সহিংসতায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এটি কেন্দ্রের বাইরে। বাকি সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে কেউ অবহিত করেনি।

ঈদগাঁও, ইসলামপুর, পোকখালী, ইসলামাবাদ ও জালালাবাদ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঈদগাঁও উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৮৮ হাজার ৭৬০। যেখানে পুরুষ ভোটার ৪৮ হাজার ২৪৮ ও মহিলা ভোটার ৪০ হাজার ২১২ জন। উপজেলা নির্বাচনে ৩৬ টি ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটকক্ষ (বুথ) রয়েছে ২৬৮টি। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top