ক্যানসারের কাছে হার মানতে চায় না দাখিল পরীক্ষার্থী নাঈম

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:

বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর স্বপ্নকে বুকে লালন করে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে নীলফামারীর ডোমারের কিশোর নাঈম ইসলাম মুন্না। আলেম হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা করা ১৬ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থীর পথ রুদ্ধ করে দাঁড়িয়েছে মরণব্যাধি ক্যানসার।

ডোমার উপজেলার পাঙ্গা মটকুপুর ইউনিয়নের মেলাপাঙ্গা ফকিরপাড়া গ্রামের নাঈম পাঙ্গা চৌপতি আব্দুল মজিদ আলিম মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী। তিন ভাই–বোনের মধ্যে সবার ছোট নাঈমের পরিবার अत्यন্ত অসচ্ছল। আর্থিক সংকটে ছেলের চিকিৎসা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

নাঈমের বাবা জহরুল আলম ও মা মরিয়ম বেগম জানান, তাদের ছেলে লিম্ফোব্লাস্টিক লিম্ফোমা নামের ক্যানসারে আক্রান্ত। বাঁচতে হলে তাকে মোট ৮টি কেমোথেরাপি নিতে হবে, চলবে প্রায় ৮ মাস। প্রতিটি থেরাপির খরচ প্রায় ৯০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে চিকিৎসায় লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছে; যা তাদের অল্প আয়ে বহন করা সম্ভব নয়। ফলে নাঈমের শারীরিক অবস্থা দিন দিন অবনতি ঘটছে। অসহায় এই পরিবার সন্তানের জীবন বাঁচাতে এখন সমাজের সহযোগিতার অপেক্ষায়।

নাঈমের সহপাঠীরা জানায়, “নাঈম খুবই ভালো এবং পরিশ্রমী ছাত্র। সে যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার ক্লাসে ফিরতে পারে—এটাই আমাদের চাওয়া। আমরা সমাজের সামর্থ্যবানদের তার পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাই।”

মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “নাঈম অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার, কিন্তু দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সে ক্যানসারে আক্রান্ত। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ১০ লাখ টাকা, যা পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব।” তিনি নাঈমের চিকিৎসায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, “নাঈমকে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।”

01312-569487 (বিকাশ/নগদ/রকেট – ব্যক্তিগত নম্বর)

একটি ছোট্ট সাহায্যও কিশোর নাঈমের জীবন বাঁচাতে হতে পারে সবচেয়ে বড় সহায়।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top