গারো পাহাড়ে বাণিজ্যিক মধু চাষ পাহাড়ি ফুলের মধুর খোঁজে শেরপুরে শতাধিক মৌয়াল

মোঃ নজরুল ইসলাম, শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুরের গারো পাহাড় অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে পাহাড়ি ফুলের মধু সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয়েছে। সীমান্তবর্তী উপজেলা ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ীর শাল-গজারি বনাঞ্চলজুড়ে রঙিন ফুলের সমাহারে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শতাধিক মৌয়াল।
হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে উঁচু টিলার বনাঞ্চলে বাঁশ দিয়ে টংঘর নির্মাণ করে কিংবা তাঁবু গেড়ে অবস্থান করছেন মৌয়ালেরা। টংঘরের নিচে সারি সারি সাজানো শত শত মৌবাক্সে দিনরাত মধু সংগ্রহ করছে মৌমাছি।

ময়মনসিংহ বন বিভাগের ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী রেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বর-জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস গারো পাহাড়ে পাহাড়ি ফুলের মধু সংগ্রহ করা হয়। এ সময় ঝিনাইগাতীতে ৩০ থেকে ৩৫টি, শ্রীবরদীতে ৪০ থেকে ৪৫টি এবং নালিতাবাড়ীতে ২৫ থেকে ৩০টি মৌয়াল দল বিভিন্ন পাহাড়ে অবস্থান করে মধু সংগ্রহ করছেন।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা থেকে আসা মৌয়াল বিল্লাল হোসেন জানান, তারা সারা বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে মধু সংগ্রহ করেন। তবে এই দুই মাস পাহাড়ি ফুলের মধুর ওপরই প্রধান নির্ভরতা থাকে। তিনি বলেন, “এ বছর প্রায় ৩০০টি মৌবাক্সে দেড় মাসে ১৫ থেকে ২০ মণ মধু সংগ্রহ করেছি। আরও ১০-১২ দিন সংগ্রহ চালাবো।”

মৌয়ালেরা জানান, বর্তমানে গারো পাহাড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার মৌবাক্সে মধু সংগ্রহ চলছে। প্রত্যেক মৌয়াল দল দেড় মাসে গড়ে ১৫ থেকে ২০ মণ মধু সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। পাহাড়ি ফুলের মধু সংগ্রহ শেষে তারা শর্ষে ফুলের মধু সংগ্রহে নামবেন। বনফুলের মধু বাজারে প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শ্রীবরদী উপজেলার বালিঝুড়ি গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মৌয়ালেরা পাহাড়ে মধু সংগ্রহ করছেন। তবে স্থানীয়দের মধু চাষে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে তারাও সহজেই এ কাজে যুক্ত হতে পারতেন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতো।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়দের প্রশিক্ষণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন হলে গারো পাহাড় এলাকায় বেকার যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের পথ খুলে যাবে।

এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আশরাফুল আলম রাসেল দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, “এ বছর অন্য বছরের তুলনায় মৌয়ালের সংখ্যা বেশি। বন বিভাগের মাধ্যমে স্থানীয়দের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে মৌচাষে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top