নিজস্ব প্রতিনিধি:
ঢাকা ডিভিশনাল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক রুদ্র বাংলা–র সম্পাদক এবং বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী মো. মতিউর রহমান সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে জীবন–মরণ সংকটে রয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও অর্থাভাবের কারণে তা এখনো শুরু করা যায়নি—এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ৩১ ডিসেম্বর সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় একটি দ্রুতগতির গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দিলে তিনি রাস্তার ওপর ছিটকে পড়েন। এ সময় গাড়িটির চাকা তাঁর বাম পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়, ফলে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।
স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানকার চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, তাঁর বাম পায়ের হাঁটু ও নিচের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে জটিলতা বৃদ্ধির কারণে তাঁকে শ্যামলীর BIHS জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সংক্রমণ ও স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনে হাঁটুর নিচের অংশ অপসারণসহ বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করতে হতে পারে, যার সম্ভাব্য ব্যয় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা। কিন্তু আর্থিক সংকটে থাকা পরিবার এই চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে পারছে না।
দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত মতিউর রহমান সততা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্য পরিচিত ছিলেন। জীবনের কঠিন এই মুহূর্তে অর্থের অভাবে তাঁর চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়াকে সহকর্মীরা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন এবং জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।
ঢাকা ডিভিশনাল প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে এবং সরকার ও সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। তাঁর পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীরা জানান, মানবিক সহযোগিতা ছাড়া এই মুহূর্তে তাঁর জীবনরক্ষার বিকল্প নেই।