আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই শক্তি ব্যবহার করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের হত্যা কিংবা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করা থেকে বিরত থাকতে ইরানকে আবারও সতর্ক করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, বিমানবাহী রণতরী **ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন**সহ কয়েকটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে। একজন কর্মকর্তা বলেন, সম্ভাব্য ইরানি হামলা ঠেকাতে ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এই মোতায়েনের ফলে ট্রাম্পের হাতে একাধিক বিকল্প থাকছে—একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার করা, অন্যদিকে প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “অনেক জাহাজ ওই দিকে যাচ্ছে—এটা সতর্কতার অংশ। আমি চাই না কিছু ঘটুক, তবে আমরা খুব কাছ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের একটি নৌবহর ওই দিকে যাচ্ছে, এবং সম্ভবত সেটি ব্যবহার করতেই হবে না।”
গত সপ্তাহে এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে জাহাজগুলো যাত্রা শুরু করে, যখন ইরানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা বেড়ে যায়।
ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা নিয়ে ট্রাম্প আগেও হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার তিনি দাবি পুনরায় তুলে ধরে বলেন, তার সতর্কবার্তার পর ইরান শত শত ফাঁসি কার্যকর করা বাতিল করেছে—যা তিনি “ইতিবাচক লক্ষণ” হিসেবে দেখছেন।
ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দেন, জুনে হামলার পর ইরান যদি আবার পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, “যদি তারা আবার চেষ্টা করে, আমরা অন্য জায়গাতেও সহজেই আঘাত হানতে পারব।”