ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু: যেভাবে খামেনির অবস্থান খুঁজে পেলো সিআইএ-ইসরাইল

নিজস্ব প্রতিনিধি:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন—এমন দাবি করেছে ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা। রোববার (১ মার্চ) ভোরে তেহরানে তার কর্মস্থলে হামলার ঘটনায় তিনি মারা যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একই ঘটনায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মৃত্যুর দাবিও করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বাধীন কোনো যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরাইল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

পশ্চিমা বিভিন্ন গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা হচ্ছিল, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা একটি সুরক্ষিত ও গোপন স্থানে অবস্থান করতেন। কিন্তু কর্মস্থলে হামলার ঘটনা সেই ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান হয়। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ খামেনির অবস্থান ও চলাফেরা সম্পর্কে কয়েক মাস ধরে তথ্য সংগ্রহ করছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তেহরানের একটি কমপ্লেক্সে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের তথ্য পাওয়ার পর হামলার সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়। ওই কমপ্লেক্সে ইরানের প্রেসিডেন্ট, সর্বোচ্চ নেতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয় রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলার প্রেক্ষাপটে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা সূত্র দাবি করেছে, তেহরানের একাধিক স্থানে একযোগে আঘাত হানা হয়। তবে হোয়াইট হাউস বা সংশ্লিষ্ট মার্কিন সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি।

অতীতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনার সময় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র খামেনির অবস্থান সম্পর্কে অবগত। সেই বক্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

অন্যদিকে, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, যৌথ অভিযানে ইরানে ব্যাপক বোমাবর্ষণ হয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিদ্যালয়ে হামলায় বহু হতাহতের খবরও প্রকাশিত হয়েছে, যদিও এ তথ্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আঘাত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং এর জবাব দেওয়া হবে।

পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি যদি নিশ্চিত হয়, তবে তা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত বিভিন্ন পক্ষের আনুষ্ঠানিক ও স্বাধীন নিশ্চিতকরণের অভাবে পরিস্থিতি অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top