আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে। ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজা মাজার কমপ্লেক্সে তাকে সমাহিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ইরাকের শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র শহর নাজাফে লাখো মানুষ জড়ো হন। এর আগে ইরাকের ঐতিহাসিক কারবালা থেকে তার মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে জানাজার আনুষ্ঠানিকতার জন্য মরদেহ মাশহাদের ইমাম রেজা মাজার কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইমাম রেজার মাজারে খামেনিকে দাফন করা হবে। তার ইচ্ছা অনুযায়ী এই স্থান নির্বাচন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদ শিয়া মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র। সেখানে শিয়া সম্প্রদায়ের অষ্টম ইমাম রেজার মাজার অবস্থিত।
শিয়া বিশ্বাস অনুযায়ী, ইমাম রেজা ছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধর ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নেতা। নবম শতকে তাকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল বলে শিয়া মুসলিমদের মধ্যে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। পরে তাকে মাশহাদে সমাহিত করা হয়।
ইমাম রেজা মাজার কমপ্লেক্সে এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিসহ ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সমাহিত হয়েছেন। ২০২৪ সালে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর রাইসিকেও সেখানে দাফন করা হয়। একসময় তাকে ইরানের সম্ভাব্য পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
খামেনির ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির জন্মও মাশহাদে। খামেনির শেষ বিদায়ের অংশ হিসেবে তার সঙ্গে একই কবরে পরিবারের কয়েকজন সদস্যকেও সমাহিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে তার শিশু নাতনি, জামাতা, কন্যা এবং পুত্রবধূ জাহরা হাদ্দাদ আদেল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হন বলে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এরপর রাজধানী তেহরানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা কর্মসূচি, ধর্মীয় শহর কোম এবং ইরাকের বিভিন্ন স্থানে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজন করা হয়।
ইরানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধপরিস্থিতির পর এই বৃহৎ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য ও শক্তির বার্তা দিতে চাইছে তেহরান।