খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে নেই সৌদি ও উপসাগরীয় প্রতিনিধিরা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিলেও এখন পর্যন্ত সৌদি আরব বা উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

শুক্রবার, ৩ জুলাই খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ইরানে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথম দিনের আয়োজন ছিল বিদেশি প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও রাষ্ট্রীয় অতিথিদের জন্য নির্ধারিত। শনিবার থেকে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার কফিন উন্মুক্ত স্থানে রাখার কথা রয়েছে।

সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘হাউজ অব সৌদ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৪ মাস আগে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হলে তার জানাজায় সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশ নিয়েছিলেন। তবে খামেনির মৃত্যুতে এবার রিয়াদ এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি।

শুধু সৌদি আরব নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর পক্ষ থেকেও অনুষ্ঠানে প্রতিনিধি পাঠানোর কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অনুপস্থিতি কেবল শোকানুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার বিষয় নয়; বরং ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থানেরও ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে সম্ভাব্য নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে এসব দেশ এখনো অপেক্ষাকৃত সংযত অবস্থানে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৩ সালের বেইজিং চুক্তির পর সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন সৌদি আল-এনজি তেহরানে দায়িত্ব নেন। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে তিনি বর্তমানে তেহরানে আছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ হয়নি।

অন্যদিকে, ইরানের সৌদি আরবে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়াতি রিয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের বহিষ্কারের ঘটনায় তিনি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না বলেও জানা গেছে।

এবারের চিত্রটি ২০২৪ সালের মে মাসে ইব্রাহিম রাইসির জানাজার সময়ের তুলনায় ভিন্ন। তখন কাতারের আমির ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত ছিলেন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানাজায় অংশ নেন।

খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর নীরবতা ও অনুপস্থিতিকে সমন্বিত কূটনৈতিক অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। তবে এ বিষয়ে জিসিসির পক্ষ থেকে কোনো যৌথ বিবৃতি বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top