আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। ভয়াবহ এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৯৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এছাড়া হাজার হাজার মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
মঙ্গলবার ভেনেজুয়েলা সরকার হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেছে। রাজধানী কারাকাস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার সরঞ্জাম ও জনবলের সীমাবদ্ধতার কারণে ভূমিকম্পের প্রায় এক সপ্তাহ পরও বহু মানুষকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করা সম্ভব হয়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ভবন ধসে পড়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর থেকেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়েছে। তবুও স্বজনদের খোঁজে বহু পরিবার ধ্বংসস্তূপের পাশেই অপেক্ষা করে আছেন।
এমনই একজন মিরেল্লা হেরেরা। তিনি তার ছেলের ধসে পড়া বাড়ির পাশে কয়েকদিন ধরে অবস্থান করছেন। সিএনএনকে তিনি বলেন, “এই অপেক্ষা অসহনীয়। আমি শুধু আশা করছি, যদি তারা এখনো জীবিত থাকে, তাহলে হয়তো কোনোভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।”
দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ এবং এখনো কয়েক হাজার ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেন্টিনেল-১ স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে প্রায় ৫৯ হাজার ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্যাটেলাইট রাডার চিত্র অনুযায়ী ৫৮ হাজার ৮৭০টিরও বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। তবে এটি প্রাথমিক মূল্যায়ন হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের জীবিত উদ্ধারের আশা নিয়ে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তাও চেয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার।