নিজস্ব প্রতিবেদক:
নব্বইয়ের দশকে রাজধানী ঢাকার অপরাধজগত নিয়ন্ত্রণ করত একদল কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী। খুন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তাদের দমনে ২০০১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশ করে এবং তাদের ধরতে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়।
তালিকা প্রকাশের পর অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান, কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হন, আবার কেউ দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। তবে দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ঢাকার অপরাধজগতে তাদের প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তাদের উত্তরসূরিরা এখনো বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়।
সম্প্রতি তালিকার দ্বিতীয় নম্বরে থাকা খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের পর আবারও আলোচনায় এসেছে সেই ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা। এ ঘটনায় তালিকাভুক্ত আরেক সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলালের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় পুরোনো আতঙ্ক নতুন করে সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তালিকাভুক্ত কয়েকজন কারামুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে ২৩ জনের মধ্যে কয়েকজন বিদেশে পলাতক, কয়েকজন জামিনে মুক্ত, তিনজন কারাগারে এবং কয়েকজন ইতোমধ্যে মারা গেছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তালিকাভুক্ত কয়েকজন এখনো দেশে রয়েছেন এবং তাদের গতিবিধির ওপর নজরদারি রাখা হচ্ছে। কেউ অপরাধে জড়িত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরাধ বিশ্লেষক ওমর ফারুকের মতে, বিচার শেষ হওয়ার আগেই কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের জামিনে মুক্তি দেওয়া জননিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
২০০১ সালের ২৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত তালিকায় কালা জাহাঙ্গীর, নাঈম আহমেদ টিটন, ফ্রিডম সোহেল, তানভীর ইসলাম জয়, হারিস আহমেদ, রাসু, কিলার আব্বাস, পিচ্চি হেলাল, পিচ্চি হান্নান, সুব্রত বাইনসহ মোট ২৩ জনের নাম ছিল।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ দীর্ঘ কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন। আবার কয়েকজন কথিত বন্দুকযুদ্ধে কিংবা অসুস্থতায় মারা গেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডের চেহারা বদলালেও অপরাধী চক্রের প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়নি। নতুন প্রজন্মের সন্ত্রাসীরা পুরোনো গডফাদারদের ছত্রছায়ায় বা তাদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। ফলে রাজধানীতে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।