ডিমলায় গয়াবাড়ি স্কুল এন্ড কলেজে পাঠদান বন্ধ রেখে সাংবাদিক সম্মেলন

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গয়াবাড়ি স্কুল এন্ড কলেজে পাঠদান চলাকালীন সময় শিক্ষার্থীদের ক্লাস বন্ধ রেখে প্রকাশ্যে সাংবাদিক সম্মেলন আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে।

কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় ৩ জন কথিত কর্মচারী ও ৫ জন শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানে চরম উত্তেজনা ও বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে, যা শিক্ষা প্রশাসনের বিধি-বিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে প্রতিষ্ঠান খোলা থাকা অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান বন্ধ রেখে কলেজ মাঠে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অপ্রত্যাশিত বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, গয়াবাড়ি স্কুল এন্ড কলেজটি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে পরবর্তীতে উচ্চ মাধ্যমিক শাখা সংযুক্ত হওয়ায় এর নামকরণ হয় গয়াবাড়ি স্কুল এন্ড কলেজ। তবে সম্প্রতি কলেজ শাখায় নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে।

এলাকাবাসীর দাবি, কলেজ শাখার অধ্যক্ষ পদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফরহাদ হোসেন সরকার এবং কলেজ শাখার সহকারী অধ্যাপক কামরুজ্জামান ও ফিরোজুল ইসলাম–এর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। সাম্প্রতিক ঘটনাটি সেই বিরোধেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফরহাদ হোসেন সরকার বলেন, “৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল। শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি সেদিন ছুটিতে ছিলাম। সেই সুযোগে উল্লেখিত দুজন শিক্ষকসহ শামসুল আলম, গোলাম মোস্তফা, হুমায়ারা বেগম ও সাদেকুল আলম সরকারকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রেখে আমার বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রকাশ্যে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে। বিষয়টি আমি গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।”

অভিযোগের বিষয়ে গভর্নিং বডির সভাপতি ও ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “প্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ রেখে সাংবাদিক সম্মেলনের বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে এ ঘটনায় এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কখনোই ব্যক্তিগত বিরোধ বা ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মঞ্চ হতে পারে না। প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষা ও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top