মোঃ সাজেল রানা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বন্য পাখির মাংস বিক্রির অভিযোগে রংপুরের ‘মহব্বত হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট’-এ প্রতিবাদ জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন ভয়েস। আজ কারমাইকেল কলেজ ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার স্বেচ্ছাসেবীরা রেস্টুরেন্টটিতে গিয়ে মালিককে বন্যপ্রাণী নিধন আইনের বিভিন্ন শাস্তির কথা মনে করিয়ে দিয়ে সতর্ক করেন।
দীর্ঘদিন ধরে ‘মহব্বত হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট’ (পূর্বনাম: মহব্বত মিষ্টান্ন) ফেসবুকে ভিডিও প্রচার করে বিভিন্ন প্রজাতির বন্য পাখির মাংস বিক্রি করে আসছিল। বিষয়টি গ্রীন ভয়েসের নজরে এলে তারা সরেজমিনে পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে হোটেলের শ্রমিকরা শুরুতে বিভিন্ন ধরনের পাখির মাংস দেখালেও পরবর্তীতে হোটেল মালিক তা অস্বীকার করেন। তবে ফেসবুকে থাকা একাধিক ভিডিওতে স্পষ্টভাবে বিভিন্ন বন্য পাখির মাংস বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অভিযানকালে হোটেলের একজন শ্রমিক জানান যে, স্থানীয় বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও নিয়মিত সেখানে পাখির মাংস খেতে আসেন।
গ্রীন ভয়েসের পক্ষ থেকে
জানানো হয়, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ অনুযায়ী বন্য পাখি শিকার ও এর মাংস বিক্রি করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।
উক্ত প্রতিবাদ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন গ্রীন ভয়েস কারমাইকেল কলেজ ইউনিটের সভাপতি শারমিন জাহান সোনামনি, সাধারণ সম্পাদক নাফিস শাহরিয়ার বাঁধন, সদস্য সাজেল রানা ,সদস্য হাবিবুর রহমান ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিটের সদস্য স্বপ্নীল ও সদস্য তাসনিমা তাবাসসুম।
আরো উপস্থিত ছিলেন কারমাইকেল কলেজ আবৃত্তি সংসদের সভাপতি মেহেদী হাসান ও এলাকাবাসীরা।
গ্রীন ভয়েস-এর নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং বন্যপ্রাণী রক্ষায় সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা ঘোষণা করেন যে, পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় তাদের এই সামাজিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।