মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত রাজবাড়ী-০২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী প্রার্থী মোঃ হারুন অর রশিদ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে।
রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পাংশা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলন ও মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে মোঃ হারুন অর রাশিদ আনুষ্ঠানিকভাবে এ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। এসময় প্রবীণ রাজনীতিক ও সংসদ সদস্য প্রয়াত সিরাজুল ইসলাম মৃধার সহধর্মীনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদা সিরাজ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এ্যাড, মোঃ আসলাম মিয়া, রাজবাড়ী জেলা বিএনপি’র আহবায়ক এ্যাড, মোঃ লিয়াকত আলী বাবু, সদস্য সচিব এ্যাড, কামরুল আলম, পাংশা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মোঃ চাঁদ আলী খান, বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খান, বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম শওকত সিরাজ, কালুখালী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি লুৎফর রহমান খান সহ বালিয়াকান্দি, পাংশা ও কালুখালী উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কল্যাণমুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রভায় নিয়ে সাজানো ইশতেহারের আলোকে হারুন অর রশিদ মোট ১২ টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
হারুন অর রশিদের এই নির্বাচনী ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তন, এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে অর্মমুখী করার মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি স্থান পেয়েছে।
হারুন অর রশিদের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু, কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ কৃষি বিমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালু, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা, ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বোচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ১০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু, ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ভিত্তিক অবকাঠামো উন্নয়ন, খাল খনন, পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থাসহ নানাবিধ উন্নয়ন ভাবনার বর্ণনা করা হয়েছে।
নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণাকালে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন, এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়। এটি একটি নতুন সামাজিক চুক্তির ঘোষণা। বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
তিনি বলেন, আমাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা হলে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে, আইনের উর্ধ্বে কেউ থাকবে না লুটপাট নয়, উৎপাদন, জয় নয়, অধিকার। বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা- এই নীতিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে এবং প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবে- আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।