মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের হুলাইন ব্লকের নতুননগর (খালকুলা) গ্রামের মাঠে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় মাঠ দিবস ও কারিগরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নতুননগর (খালকুলা) মাঠে বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি সম্প্রদায়ের অধিদপ্তরের আয়োজনে এ মাঠ দিবস ও কারিগরি প্রযুক্তির আওতায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রতন কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে ও ইসলামপুর ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাছুমা আক্তারের সঞ্চালনায় মোহাম্মদ ইদ্রিস আলীর কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন, জেলা বীজ প্রত্যায়ন কর্মকর্তা মোঃ মাছিদুর রহমান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলাউদ্দিন সরদার, মোঃ আকরামুল হক, ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ মোহন রায়হান, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোঃ তোফাজ্জল হোসেন, সদস্য মোঃ মোহন মল্লিক, পল্লী চিকিৎসক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বাবুল, কৃষক রাকিবুল ইসলাম ও রাশিদা বেগম প্রমুখ।
বক্তাগণ বলেন, অত্র অঞ্চলের কৃষি উদ্যোক্তা মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম এবং তার মা রাশিদা বেগম মানচিং পদ্ধতিতে মসলাজাতীয় ফসল মরিচ চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলে দিয়েছেন। তাদের দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকও এই পদ্ধতি গ্রহণ করছে বলে জানান বক্তাগণ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন,মানচিং পদ্ধতির এই চাষ লাভবান হওয়ায় এখন অনেক কৃষক এই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। জেলার ৫টি উপজেলায় নতুন নতুন কৃষি উদ্দোক্তা সৃষ্টি হচ্ছে। এখানে অপর এক কৃষক রাকিবুলকে দেখে তার জমিতেও এই পদ্ধতিতে চাষ করেছেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের শুধু মরিচ নয় সব ধরনের মসলা জাতীয় ফসল উৎপাদন করা দরকার। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনে রাজবাড়ী জেলা। আর এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বালিয়াকান্দি উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের মাঠ আর মাঠের কৃষক। পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়া, রাঁধুনী সজ, কালোজিরা, মেথি, জৈন, শলে, আদা, হলুদ এর মতো মসলার চাষ আরও বাড়াতে হবে। এগুলোর চাষ বাড়লে যেমন আমাদের মসলার চাহিদা পূরণ হবে, তেমনি রফতানি করে অর্থ উপার্জন সম্ভব হবে। এতে করে কৃষক স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রতন কুমার ঘোষ বলেন, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগণ প্রতিটি মাঠে মাঠে গিয়ে সাধারণ কৃষকদের সাথে কাজ করে থাকে। আমরা কৃষিকে আধুনিক করতে এলাকায় এলাকায় নতুন নতুন উদ্দোক্তা সৃষ্টি করে চলেছি। আমাদের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ সব সময় আমাদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে থাকেন। আমরা আগামীতে বালিয়াকান্দিকে আধুনিক কৃষি এলাকা হিসেবে গড়তে পারবো বলে আশাবাদী।