“ বাবার গড়া গ্রামে প্রতিমন্ত্রী ছেলের নজর চান বাসিন্দারা ” নান্দাইলে জরাজীর্ণ ঘর ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ত্রিমোহনী গুচ্ছগ্রাম

ময়মনসিংহ জেলা সংবাদদাতা: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মুশুল্লী ও সিংরইল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত ‘ত্রিমোহনী গুচ্ছগ্রাম’। প্রায় তিন দশক আগে অসহায় ছিন্নমূল মানুষের আশ্রয়ের জন্য এটি নির্মিত হলেও আজ তা কেবলই বঞ্চনার প্রতীক। দীর্ঘ ৩০ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগায় জরাজীর্ণ ঘর, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন এখানকার বাসিন্দারা। ভূপেন হাজারিকার সেই বিখ্যাত গান ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এ পংক্তিটি যেন এই গ্রামবাসীর জীবনে এক অভিশপ্ত ও উপহাসের অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিএনপি সংসদ সদস্য মরহুম আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী সরকারি খাসজমিতে এই ‘ত্রিমোহনী আদর্শ গ্রাম’ উদ্বোধন করেন। যা বর্তমানে গুচ্ছগ্রাম হিসাবে পরিচিত। রাজনৈতিক কারণে বিগত সরকারগুলোর আমলে এখানে কোনো উন্নয়নের কাজ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মাত্র ৪০টি ঘর দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে সেখানে অর্ধশতাধিক পরিবারের বসবাস। তবে এবার গুচ্ছগ্রামবাসীর চোখে উন্নয়নের স্বপ্ন, কেননা যিনি গ্রামটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তারই সুযোগ্য পুত্র বাবার আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি বর্তমানে তিনি বিএনপি সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। কখন আধাঁর কেটে আলোকিত হবে তাদের জীবন। তাই নতুন আশায় বুক বেঁধেছেন অবহেলিত গুচ্ছগ্রামবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরগুলো এখন ভাঙাচোরা। বর্ষার পানি থেকে বাঁচতে চালের ওপর পলিথিন ও কম্বল বিছিয়ে পাথর দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। প্রতিটি ছোট ঘরে গাদাগাদি করে বাস করছে ২-৩টি পরিবার। স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট না থাকায় খোলা জায়গায় পলিথিন মুড়িয়ে কোনোমতে কাজ সারতে হচ্ছে তাদের। এছাড়া ওই গ্রামে বড় রেন্ট্রি গাছটি ঝড়ে ভেঙে পড়ার আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে বাসিন্দাদের। শিক্ষার পরিবেশ না থাকায় এখানকার শিশুরা শৈশবেই ঝরে পড়ছে। পূর্বে একটি মক্তব্য ছিল, যা বর্তমানে তা ভেঙ্গে যাওয়া বিলীন হয়ে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা। দিনভর শিশুরা খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকে। পবিত্র রমজান মাসেও কাটেনি তাদের হাহাকার। চরম অর্থকষ্টে থাকা এই মানুষগুলো কেবল শুকনো মুড়ি ও পানি দিয়ে ইফতার ও সেহরি সারছেন। তবুও ধর্মের প্রতি অটল বিশ্বাস নিয়ে তারা পথ চেয়ে আছেন কখনো যদি কেউ তাদের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন ও বজলু মিয়া বলেন, “আমরা গরিব বলে কেউ আমাদের দেখে না। আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী আমাদের ঘর দিয়েছিলেন। এখন উনার ছেলে ইয়াসের খান চৌধুরী মন্ত্রী হয়েছেন। তিনি যদি একটু আমাদের দিকে তাকান, তবেই আমরা এই নরক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাব।” পাশের গ্রামের বাসিন্দা তানিম ভূইয়া জানান, এই অবহেলিত মানুষের দুঃখ লাঘবে নতুন ঘর নির্মাণসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, “গুচ্ছগ্রামবাসীর উন্নয়নে বড় ধরনের প্রকল্প প্রয়োজন। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ নান্দাইলের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি’র দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top