মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের সদাশিবপুর গ্রামের মোঃ নাদির শেখ নামে এক প্রবাসীর বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে প্রবাসীর পরিবার সহ একাধিক বাসিন্দারা। প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই রাস্তা দিয়ে বাড়িতে যাতায়াত করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি পাশের জমির মালিক দাবি করে রাস্তার ওপর বেড়া দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিবেশী মোঃ ফজলু শেখ। এতে পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে প্রবেশ ও বের হতে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরব প্রবাসী মোঃ নাসির শেখের পিতা মৃত আবু বক্কার শেখ ১৯৯৪ সালে সদাশিবপুর মৌজার ২৩৫/২৩৬/২৩৭ দাগে ১০.২৫ শতাংশ জমি প্রতিবেশী মৃত আবু সাত্তার শেখের কাছ থেকে কবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করে নেন। এরপর থেকে নাসির গং ওই জমি ভোগদখল করে আসছিলেন।

সেই জমির উপর দিয়ে তাদের চলাচলের রাস্তা করা আছে। সম্প্রতি মৃত আবু বক্কার শেখের ভাতিজা ফজলু শেখ ও তার ছেলে সোহাগ শেখ কোন একটি দলের প্রভাব খাটিয়ে রাস্তার ওপর বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা
সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী নাসির শেখের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী প্রবাসে থাকেন। আমি ছেলেদের পড়ালেখার সুবিধার্থে রাজবাড়ী থাকি। মাঝে মাঝে বাড়িতে এসে থাকি। আমাদের বড় পরিবার সবাই যার যার মতো ঘর করে নিয়েছে। আমরা নতুন করে বাড়ি করার জন্য মাটি ফেলেছি ফজলু শেখের বাড়ির পাশে। হঠাৎ করে ফজলু শেখ আমাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা আটকে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরে ফজলু শেখের ছেলে সোহাগ শেখ আমার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবী করে। সে বলে পিকনিক করার জন্য টাকা দিতে হবে। আমি তখন দিতে রাজি না হলে হুমকি দেয় এখানে বসবাস করতে দিবে না। এর পরেই রাস্তা আটকে দিয়েছে। এমনকি আমি বাড়ি আসলে আমার ছেলেদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ ফজলু শেখ দাবি করেছেন, রাস্তার জায়গাটি তার নিজস্ব জমির মধ্যে পড়েছে। তাই সেই রাস্তা আটকে দিয়েছে। এতো বছর কেনো রাস্তা আটকে দিলেন না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন ওরা নতুন করে বাড়ি করবে। এখন বন্ধ না করলে আমি আর জমি ফিরে পাবো না। আপনার ছেলে টাকা দাবি করছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার ছেলে পিকনিক করার জন্য অনেকের কাছ থেকে টাকা চেয়ে নিয়েছে। তবে এটা চাঁদা না।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, চলাচলের রাস্তা আটকে দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে এসিল্যান্ডকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।