মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
সারাদেশের মতো জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের প্রভাব পড়েছে নীলফামারীতেও। এর ফলে একদিকে যেমন মোটরসাইকেল বিক্রি কমে গেছে, অন্যদিকে বিআরটিএ অফিসেও প্রত্যাশিত চাপ দেখা যাচ্ছে না।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জ্বালানি তেল নিতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। সকাল থেকেই চালকদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেক জেলায় বৈধ কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া তেল সরবরাহ না করা হলেও নীলফামারীতে এ ধরনের কঠোর নির্দেশনা এখনো জারি হয়নি। ফলে মোটরসাইকেলের কাগজপত্র বৈধ করতে বিআরটিএ অফিসে বাড়তি চাপ তৈরি হয়নি।
এদিকে, জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে মোটরসাইকেল বাজারে। শহরের বিভিন্ন শোরুমে ক্রেতা উপস্থিতি কমে গেছে। অনেক শোরুমে দিনভর বসেও একটি মোটরসাইকেল বিক্রি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
জেলা বিআরটিএ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৬০টি এবং মার্চ মাসে ১৫০টি ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন জমা পড়েছে। একই সময়ে যানবাহন রেজিস্ট্রেশনের আবেদন ফেব্রুয়ারিতে ছিল ১১০টি, যা মার্চে কমে দাঁড়িয়েছে ১০০টিতে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে নতুন গাড়ি কেনার আগ্রহ কমে যাওয়ায় এসব আবেদনও হ্রাস পেয়েছে।
সদরের শাকিল মটরসের ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েকদিন ধরে বিক্রি প্রায় বন্ধ। গত চার দিনে একটি মোটরসাইকেলও বিক্রি করতে পারিনি।”
ইসলাম মটরসের হোন্ডা শোরুমের ম্যানেজার তানভির ইসলাম জানান, “গত মাসের তুলনায় চলতি মাসে বিক্রি কমেছে। জ্বালানি সংকটের কারণে ক্রেতারা নতুন মোটরসাইকেল কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ঈদ উপলক্ষে ছাড় থাকলেও আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে না।”
আরাফাত মটরসের স্বত্বাধিকারী আরাফাত হোসেন বলেন, “শোরুমগুলোর অবস্থা এখন বেশ খারাপ। জ্বালানি সংকটের কারণে বিক্রি কমে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছি।”
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, “জেলায় এখনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই পেট্রোল পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে বিআরটিএ অফিসে চাপ বাড়েনি, বরং গত কয়েক মাসের তুলনায় কিছুটা কমেছে।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে মোটরসাইকেল বাজার ও সংশ্লিষ্ট খাতের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে।