আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রণালি খুলে দেওয়া বা চুক্তিতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায় ইরানের অবকাঠামোর ওপর কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
তবে ইরান এখন পর্যন্ত কোনো নমনীয়তার ইঙ্গিত দেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সময়সীমা পার হলে ইরান সরাসরি প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে না গিয়ে ‘লেয়ার্ড এসিমেট্রি’ কৌশল গ্রহণ করতে পারে, যার লক্ষ্য হবে সংঘাতের ব্যয় এতটাই বাড়ানো যাতে বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হলে কয়েকটি বড় ঝুঁকি সামনে আসতে পারে—
প্রথমত, ইরান স্মার্ট মাইন ও জিপিএস জ্যামিংয়ের মাধ্যমে নৌপথকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে, যার ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। এতে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও পানি অবকাঠামো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, যা আঞ্চলিক সংকটকে আরও তীব্র করবে।
তৃতীয়ত, সাইবার হামলার মাধ্যমে বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানোর ঝুঁকিও রয়েছে।
চতুর্থত, ইরান তার আঞ্চলিক মিত্রদের সক্রিয় করতে পারে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে সমন্বিত হামলার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
পঞ্চমত, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্যে পরিবর্তন এনে কিছু দেশের সঙ্গে বিকল্প সহযোগিতা গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারে ইরান, যা যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে মূল লক্ষ্য সরাসরি সামরিক জয় নয়, বরং সংঘাতকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যেখানে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে। ফলে হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক এই উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।