২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নীলফামারীতে ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারীতে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) নীলফামারী প্রেস ক্লাব চত্বরে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি এ বি এম মঞ্জুরুল আলম সিয়াম, সাধারণ সম্পাদক মিল্লাদুর রহমান মামুন, সাংবাদিক ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নীলফামারী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির ইনচার্জ মো. নাজমুল হুদা, অনুকূল চন্দ্রসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ইউনিটের সংগঠক মো. রুহুল আমিন।

অনুষ্ঠানে রুহুল আমিন বলেন, “দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে আলোকিত মানুষ গড়ে তুলতে হবে। বই পড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়েই সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।”

মেলার ইউনিট ইনচার্জ মো. অমিত চক্রবর্তী বলেন, “বর্তমান প্রজন্মকে বইমুখী করা এবং তাদের মধ্যে জ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ভ্রাম্যমাণ বইমেলার মাধ্যমে আমরা মানুষের দোরগোড়ায় বই পৌঁছে দিচ্ছি, যা তরুণদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

নীলফামারী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও এটিএন নিউজের প্রতিনিধি মিল্লাদুর রহমান মামুন বলেন, “বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি সমাজে সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তরুণ প্রজন্মকে অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে বইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা জরুরি।”

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র জানায়, ২৩ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় সংস্থাটির নিজস্ব প্রকাশনাসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রকাশনীর প্রায় ১০ হাজার বই প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। ‘আলোকিত মানুষ চাই’ স্লোগানকে সামনে রেখে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সারাদেশে এ ভ্রাম্যমাণ বইমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে মেলা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে জেলা প্রশাসন, নীলফামারী।

এদিকে, মেলার দ্বিতীয় দিনে শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকালে চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিকাল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চিত্রাঙ্কন এবং ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত আবৃত্তি প্রতিযোগিতা চলছে।

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় শিশু থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা চারটি গ্রুপে অংশ নিচ্ছে। বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে—যেমন খুশি, গ্রামের দৃশ্য, ঋতুকাল এবং নীলফামারীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য। প্রতি গ্রুপে ৩ জন করে বিজয়ীকে পুরস্কৃত করা হবে।

অন্যদিকে, আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় তিনটি গ্রুপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে প্রতি গ্রুপে ১ জন করে মোট ৩ জনকে পুরস্কার প্রদান করা হবে।

আগামী ২৬ এপ্রিল রবিবার বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া মেলার অংশ হিসেবে গান, নৃত্য ও একক অভিনয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা প্রতিযোগিতামূলক নয় বরং সাংস্কৃতিক চর্চাকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top