মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় খুনের মামলার আতঙ্কে প্রায় পুরো একটি পাড়া ফাঁকা হয়ে পড়েছে। আর সেই সুযোগে সংঘবদ্ধ একটি চক্র অন্তত ২৫টি বাড়িতে ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে পলাতক থাকা পরিবারগুলোর বাড়িঘর এখনো অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও পুলিশের বক্তব্য নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র বিতর্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মার্চ ডোমার উপজেলা চত্বর সংলগ্ন ময়দানপাড়ায় গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহত হন। এ ঘটনায় ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অর্ধশতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার ভয়—বিশেষ করে ‘অজ্ঞাত আসামি’ হিসেবে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায়—পুরো পাড়াজুড়ে মানুষ পরিবারসহ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

এই শূন্যতার সুযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বাড়িঘরে ঢুকে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু, ফসলসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। পাশাপাশি অনেক বাড়িতে ভাঙচুরও চালানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, তাদের কয়েক কোটি টাকার সম্পদ লুট হয়েছে।
মামলায় নাম না থাকলেও অজ্ঞাত আসামি হওয়ার ভয়ে পালিয়ে থাকা একাধিক ব্যক্তি জানান, “মামলায় ঢুকিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আমাদের ঘরছাড়া করা হয়েছে। এখন বাড়িতে ফিরতে পারছি না, কথা বলতেও ভয় লাগছে।”
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মামলার আতঙ্কে তাদের আত্মীয়স্বজনও বাড়িতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে লুটপাট চললেও কার্যত কেউ প্রতিরোধ করতে পারেনি।
এদিকে পলাতক ভাইয়ের বাড়ি দেখতে গিয়ে হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন আকলিমা বেগম নামের এক নারী। তিনি বলেন, “বাড়ি দেখতে গিয়ে দেখি লুটপাট চলছে। প্রতিবাদ করতে গেলে বাদীপক্ষের লোকজন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ দাবি করেন, তার কাছে লুটপাটের কোনো লিখিত অভিযোগ নেই। তার ভাষ্য, “বাড়িগুলো লুট হয়নি, সাম্প্রতিক ঝড়ে এলোমেলো হয়ে পড়েছে।” যদিও ঘটনার দায় কার—এ প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন—মামলার ভয়কে পুঁজি করে একটি পুরো পাড়াকে খালি করে দিয়ে পরিকল্পিত লুটপাটের ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে জনমনে।