নিজস্ব প্রতিবেদন:
কায়রোর ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয় এক সৌজন্য ও জ্ঞানগর্ভ সাক্ষাৎ। এতে মিলিত হন আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থীদের দপ্তরের প্রধান, শাইখুল আজহার ড. আহমেদ তৈয়্যিবের উপদেষ্টা ও কুল্লিয়াতুল উলূমুল ইসলামিয়ার ডিন ড. নাহালা সাঈদী এবং লেখক, কলামিস্ট ও আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান।
সাক্ষাৎটি কেবল আনুষ্ঠানিক সৌজন্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা পরিণত হয় ইসলামী জ্ঞান, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অভিজ্ঞতা এবং ভাষান্তরের মাধ্যমে জ্ঞান বিস্তারের সম্ভাবনা নিয়ে এক অর্থবহ আলোচনায়। আলোচনায় উঠে আসে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বর্তমান বাস্তবতা, মিশরে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জ এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইসলামী জ্ঞানের আদান-প্রদানের প্রয়োজনীয়তা।
আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ড. নাহালা সাঈদীর ইন্দোনেশিয়ায় অনূদিত ও প্রকাশিত বই। ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে তার একটি গ্রন্থ অনুবাদ ও প্রকাশিত হওয়ার অভিজ্ঞতা তিনি তুলে ধরেন, যা পরবর্তীতে বাংলা ভাষায়ও অনুরূপ উদ্যোগ গ্রহণের অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হয়। এ প্রসঙ্গে জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের কাছে ইসলামী চিন্তাধারা ও গবেষণাধর্মী রচনা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে অনুবাদ কার্যক্রম বিস্তারের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
নারী শিক্ষা ও ইসলামে নারীর অবদান নিয়েও আলোচনা হয় সাক্ষাতে। উভয় পক্ষই মত প্রকাশ করেন যে, ইসলামী জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সমকালীন সময়ে সেই অংশগ্রহণ আরও সুসংগঠিত ও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন।
সাক্ষাৎ শেষে পারস্পরিক সৌজন্য ও সম্মান বিনিময় হয়। ড. নাহালা সাঈদী লেখক জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ানকে তার কিছু রচনার অনুবাদ ও প্রকাশের বিষয়ে লিখিত অনুমতি প্রদান করেন। একই সঙ্গে তিনি লেখককে তার রচিত কিছু বই হাদিয়া প্রদান করেন।
অন্যদিকে, লেখক জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ানও ড. নাহালা সাঈদীকে তার রচিত কিছু গ্রন্থ উপহার দেন। ভিন্ন ভাষার হলেও বইগুলো তিনি আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন।
মারকাজুল তাতবীরের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মারকাজুল তাতবীরের কয়েকজন শিক্ষক এবং লেখকের সহযাত্রী মুহাম্মদ আম্মার হোসাইন, শিক্ষার্থী, কুল্লিয়াতুশ শারিয়া ইসলামিয়া, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই সাক্ষাৎ ইসলামী জ্ঞানচর্চা, অনুবাদ কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সংলাপের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে, যা ভবিষ্যতে আন্তঃসাংস্কৃতিক জ্ঞান বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।