২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ফেসবুকে বন্ধুত্ব: একজনের সাথে দুই বান্ধবীর বিয়ে – রাজবাড়ীর সৌদি প্রবাসীকে হয়রানীর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

সৌদি প্রবাসী রাজিয়া সুলতানার সাথে ফেসবুকে পরিচয় খাদিজা আক্তারের। ফেসবুকে বন্ধুত্বের সুত্রধরে রাজবাড়ীর সৌদি প্রবাসী হাসান খানের সাথে গোপনে বিয়ের প্রলোভন দেখায়। হাসান সৌদি থেকে দেশে আসার পরই ঢাকায় একটি বাসায় রেখে বিয়ে দেয়। একই সাথে রাজিয়া সুলতানাও কাজীর যোগসাজসে কাবিননামা তৈরী করেন। এখন নানা ভাবে ব্লাকমেইল করাসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানী করছে।

শনিবার (২৩ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজবাড়ী শহরে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন, রাজবাড়ী সদর উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী হাসান খানের স্ত্রী ও বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার লেমুয়া গ্রামের আব্দুল গফফারের কন্যা খাদিজা আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে খাদিজা আক্তারের বাবা আব্দুল গফফার, হাসান খানের বাবা হাসেম খান সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সৌদি প্রবাসী হাসান খানের স্ত্রী খাদিজা আক্তার বলেন, বাগেরহাট সদরের জবেদ আলী শিকদারের মেয়ে সৌদি আরব প্রবাসী রাজিয়া সুলতানা। তার সাথে আমার ফেসবুকে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুত্রধরে খুবই ভালো সম্পর্ক তৈরী হয়। বোনের সম্পর্কের কারণে আমাকে সৌদি প্রবাসী হাসান খানের সাথে বিয়ের কথা বলে। আমি তার কথা বিশ্বাস করি। হাসান সৌদি থেকে আমার বিয়ের জন্য অনেক মালামাল আনলে রাজিয়া তাকে ঢাকায় একটি বাসায় রাখে। ওই মালামাল আত্নসাৎ করে সে। সেখানে পিরোজপুর পৌরসভার ম্যারেজ রেজিষ্ট্রার কাজী সাইফুল ইসলামকে দিয়ে আমার বিয়ের সময় কৌশলে রাজিয়া সুলতানার নামেও কাবিননামা তৈরী করে। একই সময়ে আমার বিয়ের স্বাক্ষী ও নিজের বিয়ের কাবিন তৈরী করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে রাজিয়া আমার পরিবারের সাথে কথা বলে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে দেয়। ওই বিয়েতে সেও উপস্থিত ছিল। যদি তাকেই বিয়ে করে থাকে,তাহলে সে আমাকে নিজে থেকে কিভাবে বিয়ে দিলো। তার বড় বড় দু’টি সন্তান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী হাসান খানকে সৌদি আরবে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেয় রাজিয়া। এখন নতুন করে বিয়ের নামে ও বিভিন্ন মিথ্যা প্রচারণা সহ মামলা দায়ের করে আমার ও আমার পরিবার এবং শশুর বাড়ীর পরিবারকে হয়রানী করছে। আমি প্রশাসনের নিকট সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছি।

রাজিয়া সুলতানা বলেন, আমার সৌদি আরবে হাসান খানের সাথে পরিচয় হয়। ওখানে ১০ মাস কাজ করেছি, সব টাকা হাসান আত্নসাৎ করেছে। সে আমাকে বিয়ে করে। আমি দেশে চলে আসলে হাসান আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। তখন আমার বান্ধবী খাদিজাকে দিয়ে হাসানকে রাজি করাই। পরে সে দেশে আসলে আমাকে বিয়ে করে। পরে আমাকে না জানিয়ে বান্ধবী খাদিজাকে বিয়ে করে। আমাকে মারধর করাসহ জরায়ুর নারী কেটে দিয়েছে। আমি আদালতে মামলা দায়ের করেছি। আমি বিচার চাই।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top