মোঃ নুর আলম পাপ্পু, খোকসা কুষ্টিয়াঃ
খোকসার ইতিহাস, সাংবাদিকতা ও সামাজিক আন্দোলনের কথা বলতে গেলে যে কজন মানুষের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হওয়া উচিত, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন । ১৯৮৪ সালে খোকসায় সর্বপ্রথম প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকতাকে একটি সুসংগঠিত ভিত্তি প্রদান করেন। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, খোকসার নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই গুণী মানুষটির অবদান সম্পর্কে তেমন জানেন না।
সম্প্রতি তার কাছ থেকে খোকসার অতীত, ঐতিহ্য, সাংবাদিকতা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে স্মৃতিচারণা শোনার সুযোগ হয়েছিল।
একজন প্রবীণ সাংবাদিক ও সমাজসেবকের কণ্ঠে উঠে আসে খোকসার বহু অজানা ইতিহাস, সংগ্রাম ও উন্নয়নের গল্প। তিনি স্মরণ করেন সেই সময়ের কথা, যখন সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও খোকসাকে এগিয়ে নিতে একঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ মানুষ নিরলসভাবে কাজ করেছেন। আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, জীবনের পথচলা শেষের দিকে। তার সহধর্মিণী ইতোমধ্যেই পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন, একদিন তাকেও চলে যেতে হবে। কিন্তু মানুষের কর্ম, সততা এবং সমাজের জন্য রেখে যাওয়া অবদান কখনো হারিয়ে যায় না। সেই কথার মধ্যেই তিনি খোকসার গুণীজনদের স্মরণ করেন এবং তাদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন খোকসার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন উসাস, এর কথা। সমাজ, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে উসাসের অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি সমাজকে এগিয়ে নিতে শুধু রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক উন্নয়ন যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সাংস্কৃতিক চর্চা ও মানবিক মানুষ তৈরির উদ্যোগ।
আজ প্রশ্ন জাগে, খোকসার ইতিহাস গড়ার এমন মানুষদের আমরা কতজন চিনি? কতজন জানি তাদের সংগ্রাম, ত্যাগ ও অবদানের কথা? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষণিকের আলোচনায় আমরা অনেককেই ভাইরাল করি, কিন্তু যারা একটি জনপদের ইতিহাস নির্মাণ করেছেন, তাদের অনেকেই থেকে যান আড়ালে। খোকসার ইতিহাসকে জানতে হলে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে হলে, আবু ইউসুফ নয়নের মতো গুণী মানুষের জীবন ও কর্মকে সামনে নিয়ে আসতে হবে। কারণ মানুষ চলে যান, কিন্তু তাদের রেখে যাওয়া কর্ম আর ইতিহাস প্রজন্মের পর প্রজন্মকে পথ দেখায়। আজকের খোকসা গঠনের পেছনে যাদের শ্রম, মেধা ও ভালোবাসা রয়েছে, তাদের যথাযথ সম্মান জানানো আমাদের সকলের দায়িত্ব।