২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

উজিরপুরে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের নির্মাণাধীন ভবনে ভাঙচুরের অভিযোগ, সেন্টারিং খুলে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

মফিজুর রহমান মাসুম, উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম ডহরপাড়া গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্যের নির্মাণাধীন ভবনের সেন্টারিং খুলে নেওয়া ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে একই বাড়ির প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম ডহরপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মোক্তার আলী হাওলাদারের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি চলছিল। এমন সময় প্রতিপক্ষের লোকজন নির্মাণাধীন ভবনের ছাদের সেন্টারিংয়ের কাঠ ও বাঁশ খুলে নিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেয় এবং ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জোসনা বেগম জানান, গত বছর ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শুরু হলেও তার নাতি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ায় দীর্ঘ সময় ঢাকায় চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। এ কারণে নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। সম্প্রতি পুনরায় কাজ শুরু করলে প্রতিপক্ষ বজলুল হাওলাদার ও তার স্ত্রী কাজল রেখাসহ একই বাড়ির কয়েকজন সদস্য সেন্টারিংয়ের কাঠ ও বাঁশ খুলে নিয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে অভিযুক্তরা এমন কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে কাজল রেখা (স্বামী: বজলু হাওলাদার), জাহানারা বেগম (স্বামী: নুর আলম হাওলাদার), নাজমুন নাহার (স্বামী: হেমায়েত হাওলাদার) ও ময়না বেগম (স্বামী: সেলিম হাওলাদার)-এর নাম উল্লেখ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের সবার বাড়ি পশ্চিম ডহরপাড়া গ্রাম, গুঠিয়া ইউনিয়ন, উজিরপুর উপজেলায়।

ঘটনার বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। কোনো পক্ষই আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না।”

অন্যদিকে, অভিযুক্ত কাজল রেখা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ সদস্যের স্ত্রী জোসনা বেগম বাড়ির পথ আটকে নির্মাণাধীন ভবনের সামনে সেন্টারিং করেছিলেন। এ বিষয়ে তিনি উজিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করায় তিনি নিজেই সেন্টারিংয়ের কাঠ খুলে নিয়েছেন, তবে কোনো ভাঙচুর করেননি বলে দাবি করেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top