মনির হোসেন, সখীপুর উপজেলা প্রতিনিধি:
বিএএফ শাহীন কলেজ পাহাড়কাঞ্চনপুরের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন “দূরন্ত ঈগল” এক্স শাহীন স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত “দূরন্ত ঈগল ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬” এর দ্বিতীয় আসরের ফাইনাল খেলা উৎসবমুখর পরিবেশে নলুয়া বাজার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফাইনালে মুখোমুখি হয় “বাঁধন ১৯” ব্যাচ ও “প্রলয় ২৩” ব্যাচ। নির্ধারিত সময়ের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে “বাঁধন ১৯” ব্যাচ। খেলা উপভোগ করতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী, স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও অসংখ্য দর্শক।
ফাইনাল খেলায় সভাপতিত্ব করেন দূরন্ত ঈগলের বর্তমান সভাপতি মনির হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ইমরান হাসান,উপদেষ্টা ইমরান হাসান শাওন,সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা সৈয়দ সবুজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৌরভ আহমেদ, সম্মানিত সদস্য সুজন চন্দ্র রবিদাস, হানিফ, রিদুয়ানসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ। টুর্নামেন্ট সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা করেন নাহিদ হাসান এবং সংগঠনের অসংখ্য ছোট ভাই ও স্বেচ্ছাসেবক।
টুর্নামেন্টে বাঁধন ১৯ ব্যাচের আব্দুল্লাহ সেরা গোলকিপার নির্বাচিত হন। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় (ম্যান অব দ্য ম্যাচ) নির্বাচিত হন শহিদুল ইসলাম এবং পুরো টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের (ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট) খেতাব অর্জন করেন প্রলয় ২৩ ব্যাচের শাওন।প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চল থেকে শাহীন পরিবারের সদস্যরা এই আয়োজনে অংশ নিতে ছুটে আসেন। ফলে টুর্নামেন্টটি কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং সাবেক শিক্ষার্থীদের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।
এবারের চ্যাম্পিয়ন দল “বাঁধন ১৯” নামের পেছনে রয়েছে আবেগঘন এক গল্প। বাঁধন ছিলেন ২০১৯ ব্যাচের একজন প্রিয় সহপাঠী। কিন্তু দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার স্মৃতিকে চিরজাগরুক রাখতে সহপাঠীরা দলের নামকরণ করেন “বাঁধন ১৯”। বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও স্মৃতিকে ধারণ করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে দলটি সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
খেলা শুরুর পূর্বে স্বাগত বক্তব্যে সভাপতি মনির হোসেন বলেন, “এই টুর্নামেন্ট সফল করতে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের সকলের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষ করে আমাদের ছোট ভাইদের অক্লান্ত পরিশ্রম ছাড়া এত সুন্দর আয়োজন সম্ভব হতো না। চ্যাম্পিয়ন ‘বাঁধন ১৯’ ব্যাচকে অভিনন্দন এবং রানার-আপ ‘প্রলয় ২৩’ ব্যাচকেও ধন্যবাদ জানাই। আগামীতে আরও বড় পরিসরে, আরও সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয় আয়োজনের মাধ্যমে এই টুর্নামেন্টকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।” তিনি আরও বলেন, “দূরন্ত ঈগল ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ শুধু একটি খেলা নয়, এটি শাহীন পরিবারের ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও ঐক্যের প্রতীক। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।”
খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার-আপ দলের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে পর্দা নামে দূরন্ত ঈগল ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় আসরের, তবে আগামী আসরকে ঘিরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে নতুন প্রত্যাশা ও উচ্ছ্বাস।