মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে প্রশাসনের তৎপরতা দেখা গেলেও নীলফামারী শহরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। শহরের বড় বাজার সংলগ্ন সওদাগর পাড়ার একটি পুকুর গত দুই বছর ধরে অবাধে ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য ফেলার স্থানে পরিণত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে ঈদের কোরবানির বর্জ্য যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে ওই পুকুরে গৃহস্থালি আবর্জনা, পচনশীল বর্জ্য এবং বিভিন্ন ময়লা ফেলে আসছে। একাধিকবার নিষেধ করা হলেও তারা তা তোয়াক্কা করছে না। বিষয়টি নীলফামারী পৌরসভাকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হলেও দীর্ঘদিন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরের পানির বড় অংশ ময়লা-আবর্জনায় ঢেকে গেছে। কোরবানির পশুর নাড়িভুঁড়ি ও বর্জ্য ফেলার কারণে দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও রোগীদের জন্য পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এভাবে বর্জ্য পড়ে থাকলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বর্জ্য পরিশোধনাগার কার্যকরভাবে ব্যবহার না হওয়ায় শহরের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বাড়ছে। এতে একদিকে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তারা দ্রুত পুকুরটি পরিষ্কার, নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর ধরে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে করতে তারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। ঈদের সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। অনেকেই ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক সাইদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী দুই থেকে এক দিনের মধ্যে পুকুরের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে পরিবেশ স্বাভাবিক করা হবে। পাশাপাশি যাতে ভবিষ্যতে কেউ সেখানে বর্জ্য ফেলতে না পারে সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকর না হলে শহরাঞ্চলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।