২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

দীঘিনালায় যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মিলল রহস্যঘেরা চিরকুট

মোঃ হাচান আল মামুন দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাবুপাড়া এলাকায় নিজ ঘর থেকে মো. হাসান (৩৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। চিরকুটে লেখা ছিল— “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।” এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে উপজেলার বাবুপাড়া ভাঙা বিল্ডিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. হাসান স্থানীয় ফজলুল হকের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক অশান্তি ও মাদকাসক্তিকে কেন্দ্র করে হাসানের সংসারে বিরোধ চলছিল। সোমবার রাতে তার সঙ্গে স্ত্রীর তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী খোদেজা বেগম অভিমান করে বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর হাসান বাড়িতে একাই অবস্থান করছিলেন।

পরদিন সকাল পর্যন্ত তাকে বাইরে দেখা না গেলে প্রতিবেশীরা খোঁজ নিতে যান। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে পাশের কক্ষের টিনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে তারা তাকে ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। চিরকুটে নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, হাসান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক সেবন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অতীতে তিনি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগও করেছেন। কারামুক্ত হওয়ার পরও তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদকাসক্তির কারণে তার পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নানামুখী সংকট সৃষ্টি হয়েছিল।

নিহতের স্ত্রী খোদেজা বেগম বলেন, “স্বামীর মাদকাসক্তির কারণে আমাদের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। তিনি নিয়মিত আয়-রোজগার করতেন না এবং প্রায়ই পারিবারিক বিরোধে জড়িয়ে পড়তেন। ঘটনার আগের দিনও আমাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। পরে আমি আত্মীয়ের বাড়িতে চলে যাই। সকালে এমন খবর শুনে আমি হতবাক হয়ে যাই।”

এ ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মাদকাসক্তির ভয়াবহতা এবং এর সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, মাদকের করাল গ্রাস থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top