৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

মাকে হত্যা করে মেঝেতে পুঁতে রাখার অভিযোগ, ছেলে পলাতক

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় গর্ভধারিণী মাকে হত্যার পর ঘরের মেঝে খুঁড়ে লাশ পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক ছেলের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় পুলিশ রাতের অভিযানে ঘরের মেঝে খুঁড়ে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে। অভিযুক্ত ছেলে ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া গ্রামে এ ঘটনা উদঘাটিত হয়। নিহত মারুফা বেগম (৬০) ওই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার পর্যন্ত মারুফা বেগমকে এলাকায় দেখা গেলেও এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও কেউ প্রথমে কোনো অস্বাভাবিকতা আঁচ করতে পারেননি।

নিহতের ছোট ছেলে লাভিন মিয়া জানান, ঈদের ছুটিতে গত ৩০ মে তিনি বাড়িতে আসেন। একই সময়ে তার বড় ভাই জুয়েল মিয়ার স্ত্রী পারিবারিক কলহের জেরে সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে তিনি নিজেও শ্বশুরবাড়িতে যান। বুধবার দুপুরে বাড়িতে ফিরে মাকে খুঁজে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

তিনি বলেন, “বিকেলে আমার স্ত্রী ঘরের বিছানার তোশক ঠিক করতে গিয়ে রক্তের দাগ দেখতে পায়। বিষয়টি জানার পর আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। পরে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ভাই জুয়েলের ঘরের মেঝেতে কাঁচা মাটি ও ফাটল দেখতে পাই। এতে সন্দেহ হলে স্থানীয়দের জানাই। তারা ঘটনাস্থলে এসে একই ধরনের সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।”

খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। সন্দেহের ভিত্তিতে রাতে জুয়েল মিয়ার ঘরের মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, উদ্ধারকৃত মরদেহের মাথার সামনের বাম পাশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই দিন আগে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয় এবং পরে ঘরের মেঝে খুঁড়ে মরদেহ গোপনে পুঁতে রাখা হয়।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত ছেলে জুয়েল মিয়া (৪০) আত্মগোপনে চলে যায়। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুস জানান, ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য জুয়েলের স্ত্রী হাসি বেগম (৩৫) ও ছেলে গোলাম রাব্বীকে (১৮) থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে অভিযুক্ত জুয়েল মিয়াই তার মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের ছোট ছেলে বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

এদিকে নিজ সন্তানের বিরুদ্ধে মাকে হত্যার এমন ভয়াবহ অভিযোগে পুরো এলাকায় শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top