রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ
উত্তর অঞ্চলের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এবং ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রসারে নতুন করে আলোচনায় এসেছে লালমনিরহাটের মোগলহাট রুট।
জুন (বৃহস্পতিবার) দুপুরে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং সরকারের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান এই বিশেষ পরিদর্শনে নেতৃত্ব দেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর বিশেষ আগ্রহ ও নির্দেশনায় এই পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। প্রতিনিধি দলটি প্রস্তাবিত বন্দর এলাকার বর্তমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি, ভৌগোলিক অবস্থান এবং এটি পুনরায় চালুর বাস্তব সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখেন।
ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পরবর্তী দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সচল থাকা এই বাণিজ্যিক পথটি পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধি দল এলাকাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর (সেভেন সিস্টার্স) সাথে আমদানি-রপ্তানি সহজতর করতে মোগলহাট একটি অত্যন্ত কৌশলগত পয়েন্ট হতে পারে।
পরিদর্শনকারী দলটি প্রস্তাবিত বন্দর এলাকার নদী ভাঙন পরিস্থিতি, ভারতের গীতালদহ অংশের দূরত্ব এবং সংযোগ সড়ক ও রেললাইনের বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখেন।

প্রতিনিধি দলের প্রধান জানান, মোগলহাটের একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে। তবে বর্তমান যুগে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর বা শুল্ক স্টেশন চালু করতে হলে কী পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করতে হবে এবং আধুনিক ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ভবন নির্মাণে কেমন কারিগরি চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা নিরূপণ করাই ছিল এই সফরের মূল লক্ষ্য।
পরিদর্শন শেষে জানানো হয়, এই সমীক্ষার ফলাফল এবং স্থানীয় অংশীজনদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে দ্রুতই একটি ব্লু-প্রিন্ট বা সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে জমা দেওয়া হবে। সরকারের সবুজ সংকেত মিললে দ্রুতই অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হতে পারে।
মোগলহাট রুটটি চালু হলে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও কোচবিহারের ব্যবসায়ীদের সাথে বাংলাদেশের দূরত্ব পরিবহন খরচ এক-চতুর্থাংশে নেমে আসবে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মতে, বুড়িমারী স্থলবন্দরের ওপর চাপ কমাতে মোগলহাট রুটটি বিকল্প হিসেবে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে পরিবহন খরচ হ্রাস সহ-ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলো থেকে পাথর, কয়লা ও ফলমূল আমদানিতে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচবে।
এই স্থলবন্দর চালু হলে রপ্তানি বৃদ্ধি: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, প্লাস্টিক সামগ্রী এবং মেলামাইন পণ্যের একটি বড় বাজার তৈরি হবে ওপারে। রুটটি চালু হলে লোডিং-আনলোডিং, পরিবহন খাত এবং স্থানীয় হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
গুরুত্বপূর্ণ এই পরিদর্শন কার্যক্রমে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হক। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত থেকে বন্দর চালুর দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।