নূর আলম পাপ্পু, খোকসা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার এর ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর চাকীপাড়া গ্রামে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দেশীয় অস্ত্র, হাতুড়ি, চাইনিজ কুরাল ও গুলিবর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতদের মধ্যে একজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০ টার দিকে এর দেবীনগর চাকীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় মোছাঃ বিউটি খাতুন (৩৮) এবং তার তিন ছেলে মোঃ মুন্নাফ হোসেন, সায়েম হোসেন ও সিয়াম হোসেনসহ পরিবারের একাধিক সদস্য আহত হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের পূর্ব বিরোধের জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালে শিউলি খাতুন ধান সিদ্ধ করে তাপালে ঢাললে সেখান থেকে গরম ধোঁয়া তার ভাসুর ভুট্টোর বাড়ির দিকে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ভুট্টো তার শালককে ফোন দিলে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র, হাতুড়ি ও চাইনিজ কুরাল নিয়ে এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় পাশ্ববর্তী ভুট্টো পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, ভুট্টোর শালক আব্দুল আলিম (৩৫), পিতা- আতিয়ার রহমান এবং ভুট্টোর ছেলে-মেয়েসহ কয়েকজন হামলায় অংশ নেন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী শিউলী পুত্রবধূ এবং পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, সায়েম হোসেনের ডান হাতে শর্টগানের গুলি লেগে ছিদ্রযুক্ত আঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সায়েম হোসেনকে -এ চিকিৎসা নিতে দেখা যায়নি। পরিবারের দাবি, তিনি স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। ফলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার অভিযোগটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সায়েম হোসেনের স্ত্রী রাহিমা খাতুন জানান, তিনি ঘরের ভেতরে শিশুসহ অবস্থান করছিলেন। বাইরে হঠাৎ শব্দ শুনে বের হয়ে এসে দেখেন তার স্বামী রক্তাক্ত অবস্থায় দৌড়ে আসছেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা আতঙ্কে ছুটোছুটি করছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তার ভাসুর ও দেবরের ওপরও আঘাত করা হয় এবং একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র তাক করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। পরে তারা প্রাণ বাঁচাতে মাঠের দিকে পালিয়ে যান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রাথমিকভাবে আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে খোকসা থানা পুলিশের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগী বিউটি খাতুনকে তার পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে – খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে খোকসা থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ৯৯৯ নম্বরে একটি কল পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিট অফিসার ঘটনাস্থলে যান এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।