মোঃ নাঈম ইসলাম, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:
পূর্ব বিরোধের জেরে নাটোরের গুরুদাসপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার শেষ বিকালে পুলিশের উপস্থিতিতে উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের মশিন্দা চরপাড়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গ্রাম জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে জাহিদ নামের একজন পলাতক আসামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এতে দেশীয় অস্ত্র, ফালা, তীর ধনুক ও লাঠি নিয়ে ময়নাল ও ইসাহক গ্রুপের মধ্যকার সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৬-৭ জন গুরুতর আহত হয়। ময়নাল গ্রুপে আহতরা হলেন – শাকিল, ময়নাল, রাজেদুল, রঞ্জু ও শাকিলের মা আনজুয়ারা।
অপর ইসাহাক গ্রুপে বিরু, বিরুর ছেলে ইসাহক, রমজান ও বানি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তাঁরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিন থেকে ৪ মাস আগে মশিন্দা ইউনিয়নের শিকারপাড়া গ্রামে সাইফুলের ভাতিজার সাথে ইসাহকের দূর সম্পর্কের মেয়ের পরকীয়া সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। মেয়েটি বাবার বাড়ি আসে। মেয়েটির ডাকে ছেলেটি তাঁর বাবার বাড়ীতে আসলে আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে ইসাহাক ও তাঁর ছেলে জাহিদ সহ ঘরে আটকে রেখে মারধর করে। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় সেখান থেকে গুরুতর অবস্থায় ছেলেকে ঊদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ইসাহক ও তাঁর ছেলে জাহিদ সহ কয়েকজনের নামে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছিলেন সাইফুল। মীমাংসা নিমিত্তে ইসাহকের কাছে প্রস্তাব দেন ছেলেটির চাচা সাইফুল। এতে রাজী না হয়ে আরও ক্ষিপ্ত হয় মেয়ে পক্ষ। মেয়ের পক্ষ নিয়ে ইসাহক ও তাঁর ছেলে মিলে সাইফুলকে মারধর করে। এভাবে এই দুই পরিবারের মধ্যে চলছিল একের পর এক মারামারির ঘটনা।
গত বুধবার রাতে ইসাহকের ছেলে জাহিদের কলাবাগানে প্রায় ২০০ টি কলা গাছ কেটে ফেলে রাখে বাগানে। এই নিয়ে সন্দেহ করে সাইফুলকে। দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্র, ফালা, লাঠি, তীর ধনুক নিয়ে ইসাহাক ও তাঁর ছেলে জাহিদ আক্রমন চালাতে চেষ্টা করলে প্রতিহত করায় শুরু হয় উভয় পক্ষের সংঘর্ষ। এক পর্যায়ে জাহিদকে ঘরে আটকে রাখে প্রতিপক্ষ। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটকে রাখা জাহিদকে ঊদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
জনপ্রতিনিধি স্বপন মুঠোফোনে বলেন, দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘ দিন যাবত বিরোধ চলছে। দুই পরিবারই কঠোর হওয়ায় বিরোধ মেটানোর চেষ্টা সম্ভব হয়নি। বর্তমান বিরোধ অবস্থা আরো খারাপ। এটা নিরসনে উদ্যোগ না নিলে যেকোন সময় বড় আকারের পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুরুল আলম মুঠোফোনে বলেন, এ ঘটনায় থানাতে উভয়পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে আগের মামলায় জাহিদ নামে একজনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।