৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের ‘পুশ-ইন’ চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি: সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা

​রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ

​লালমনিরহাটের তিনটি পৃথক সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৩৩ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশ-ইন বা জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে সীমান্তে টহলরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় ভূমিকার কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

বিজিবির বাধায় অনুপ্রবেশে ব্যর্থ হয়ে ওই ব্যক্তিরা বর্তমানে ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

​আজ শুক্রবার (৫ জুন) ভোররাতে জেলার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিজিবির ১৫ ও ৬১ ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ।

​বিজিবির মিডিয়া সেল ও সীমান্ত সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে ৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধীন বড়খাতা বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) এলাকায় ১১ জন এবং পয়ষট্টিবাড়ি বিওপি এলাকায় ১০ জনকে ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালানো হয়। এর মধ্যে বড়খাতা সীমান্তে ৩ জন পুরুষ ও ৮ জন নারী এবং পয়ষট্টিবাড়ি সীমান্তে ৫ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী ছিলেন।

​ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে লোক ঠেলে দেওয়ার খবর পেয়ে বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিজিবির তাৎক্ষণিক সতর্ক অবস্থান ও বাধার মুখে পুশ-ইনের শিকার ব্যক্তিরা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি ব্যাপক জোরদার করা হয়েছে।

​এদিকে, একই সময়ে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন দুর্গাপুর ও দিঘলটারী বিওপির টহলদল সীমান্ত পিলার ৯২৫ ও ৯২৭-এর কাছাকাছি ভারতীয় অংশে আরও ১২ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা মাইকিং করে সতর্কবার্তা দিলে তারা ভারতীয় সীমান্তের ভেতরেই অবস্থান নিতে বাধ্য হয়। আটকে পড়া এই ব্যক্তিদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে ভারতের ৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে বিজিবি।

​সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দারা এই অনুপ্রবেশ চেষ্টার বিরুদ্ধে বিজিবির পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। বড়খাতা সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা নুর ইসলাম (৫৫) বলেন, “সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা টহল জোরদার করেছেন। এলাকাবাসীও তাদের সঙ্গে অবস্থান নিয়েছেন। আমরা কোনোভাবেই ভারত থেকে অবৈধভাবে লোকজনকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেব না।”

​একই সুর শোনা গেল দুর্গাপুর সীমান্তের বাসিন্দা আওলাদ হোসেনের (৪০) কণ্ঠেও। তিনি বলেন, “বিজিবির শক্ত বাধার কারণে ওই লোকগুলো এখনো ভারতীয় অংশেই অবস্থান করছে। বিএসএফের এই অবৈধ পুশ-ইনের চেষ্টা আমরা সবাই মিলে প্রতিহত করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।”

​পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম দৈনিক আমার বাংলাদেশ সাংবাদিক কে বলেন, “অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে দেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”

​তিনি আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি নিজেও বিজিবি সদস্যদের মনোবল বাড়াতে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমান্তে অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top