৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

পতিত জমিতে আউশ বীজ উৎপাদনে সাফল্য, ডোমার বিএডিসিতে নতুন সম্ভাবনা

মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বিএডিসির ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারের পতিত জমিতে আউশ ধানের ভিত্তি বীজ উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। চলতি মৌসুমে খামারের ২১১ একর জমিতে খরাসহিষ্ণু ব্রি ধান-৯৮ জাতের আউশ ধানের বীজ উৎপাদন করা হয়েছে।

বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, ডোমার ও দেবীগঞ্জ খামার মিলিয়ে মোট ৬০১ একর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে। এর মধ্যে ২১১ একরে আউশ, ২০০ একরে ধইঞ্চা এবং বাকি জমিতে আমন আবাদ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে ৩১৬ থেকে ৪০০ মেট্রিক টন আউশ বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক আউশ চাষে সহায়ক হবে।

খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, আগে আলু উৎপাদনের পর দীর্ঘ সময় জমি পতিত থাকলেও ২০২১ সাল থেকে ধাপে ধাপে এসব জমিতে আউশ বীজ উৎপাদন শুরু হয়। গত পাঁচ বছরে খামার থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন আউশ বীজ উৎপাদিত হয়েছে।

খামারের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু তালেব মিঞা বলেন, আউশ আবাদে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে, রোগবালাই কমে এবং কৃষকরা মানসম্মত বীজ পান। মাত্র ১১২ দিনে ফসল ঘরে তোলা যায় বলে একই জমিতে পরবর্তীতে আমন, আলু, ভুট্টা, সরিষা ও বিভিন্ন সবজি চাষের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

বর্তমানে চারা রোপণ থেকে শুরু করে ধান কাটা, মাড়াই ও বীজ গ্রেডিং পর্যন্ত সব কার্যক্রম যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। এ উদ্যোগে স্থানীয় ৩০০ থেকে ৪০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে স্বল্পমেয়াদি ও খরাসহিষ্ণু আউশ ধানের বীজ উৎপাদনে ডোমার বিএডিসির এই উদ্যোগ দেশের খাদ্য ও বীজ নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top